জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা : দুই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হামলায় যুদ্ধবিমান রাখার সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল (ফাইটার জেট শেল্টার) এবং বিমান পার্কিং এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তাদের দাবি, এ হামলায় অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও কয়েকটি বিমান উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আইআরজিসির এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই বিবৃতিতে আইআরজিসি জর্ডানের সামরিক বাহিনীর প্রতি মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। তারা মার্কিন সেনাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে উল্লেখ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান ঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছে ইরান। এর ফলে এই লড়াইয়ে ইসরাইলেরও সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবাননের দৈনিক সংবাদপত্র নিদা আল ওয়াতান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। সম্প্রতি তেহরানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ফাঁকে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধ বলয়’-এর নেতারা মিত্রদের জানিয়েছেন যে, অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ হয়ে আসছে এবং এখন সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের এই প্রতিবেদনটি সামনে এল। এখন পর্যন্ত সর্বশেষ এই সংঘাতে ইসরাইল জড়িত হয়নি এবং তেহরানও সরাসরি ইহুদি রাষ্ট্রটিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তবে ইরানের লেবাননভিত্তিক ছায়াসঙ্গঠন হিজবুল্লাহ যদি এই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং ইসরাইলি ভূখ-ে তাদের হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যেতে পারে। জানা গেছে, যেকোনো চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার লক্ষ্যে হিজবুল্লাহকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত অতীতের যেকোনো লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও ভয়াবহ হতে পারে। ‘নিদা আল ওয়াতান’ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেশ কিছু বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও, তেহরান এখনো হিজবুল্লাহকেই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পদ বলে বিবেচনা করে। গত ২ মার্চ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেয়। একইসঙ্গে দেশ দুটির বিরোধ নিষ্পত্তিতে জেরুজালেম ও বৈরুতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনীতিরও বিরোধিতা করে তারা।



