জাতীয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অঙ্কগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
আরও পড়–ন
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

সম্প্রতি পাওয়া অভিযোগগুলোও আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়োগ-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ, পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নের ক্ষেত্রে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ ও পদোন্নতিতেও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশনের অভিযোগ

অভিযোগের আরেকটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দে অনিয়ম।

অভিযোগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ করা ৪৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। পাচার করা অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। তবে এসব অর্থের অঙ্ক ও পাচারের অভিযোগ এখনো দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়; এগুলোকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহে তারা ভূমিকা রেখেছেন। এসব অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা, অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরবর্তী সময়ে নতুন অভিযোগ ও নথি পাওয়া গেলে সেগুলোও চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার আসিফ মাহমুদের

এদিকে, আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগের বিষয়ে দুদকের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button