দমকা হাওয়ায় পদ্মায় ডুবলো ২০ নৌকা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক উঁচু ঢেউয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাত ৯টার দিকে পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়া শুরু হলে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে টি-বাঁধ ও টি-গ্রোয়েন এলাকায় নোঙর করা অন্তত ২০টি নৌকা ডুবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ মাস আগে নির্মিত ৭৫ মিটার দীর্ঘ বাঁধের বড় একটি অংশ। নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জাম রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তেই পদ্মা উত্তাল হয়ে ওঠে। একের পর এক বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়তে থাকে। ঘাটে নোঙর করা নৌকাগুলো একটির ওপর আরেকটি উঠে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জাম রক্ষা করতে গিয়ে জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ডুবে যাওয়া নৌকা ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ উদ্ধারে চেষ্টা চালান জেলেরা। তাদের একজন অনিক বলেন, ঘাটে তাদের তিনটি নৌকা বাঁধা ছিল। তিনটিই ডুবে গেছে। এগুলোই ছিল তাদের আয়ের প্রধান উৎস। রাতভর চেষ্টা করেও নৌকাগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি তাঁরা। পদ্মার টি-গ্রোয়েন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় পাঁচ মাস আগে নির্মিত ৭৫ মিটার দীর্ঘ ব্লকের প্রায় ৮০ শতাংশ ধসে পড়েছে। বাঁধের ইটের ব্লক সরে গিয়ে নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কেশবপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৪০ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা তিনি দেখেননি। হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ে প্রায় ২০টি নৌকা ডুবিয়ে দেয়। টি-গ্রোয়েন এলাকায় বসবাসকারী তাসনিমা বেগম বলেন, বড় বড় ঢেউ আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তীরে আছড়ে পড়ছিল। একপর্যায়ে তাঁদের মনে হয়েছিল, নদীর পানি ঘরবাড়িও ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এদিকে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা নতুন নির্মিত বাঁধের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, হঠাৎ দমকা বাতাসে নদীর পানি ফুলে উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হতে পারে। এটি সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে এ ধরনের ঘটনাকে ‘ব্যাকওয়াটার ইফেক্ট’ বলা হয়। এতে টি-বাঁধ ও টি-গ্রোয়েনের কিছু ইটের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। পানি কমে গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। এদিকে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি গত কয়েক দিনে কমছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ০৯ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটারের ৯৬ সেন্টিমিটার নিচে। গত পাঁচ দিনে এ পয়েন্টে পানি ২১ সেন্টিমিটার কমেছে। এর মধ্যেই আকস্মিক ঢেউয়ে নৌকা ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীতীরের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।



