পঞ্চগড়ে কাজী ফার্মসের ফিডমিলে হামলা-ভাঙচুর : উৎপাদন বন্ধ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ দেশের অন্যতম বৃহৎ পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসের পঞ্চগড়ের একটি ফিডমিলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিডমিলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিষ্ঠানটির উত্তরবঙ্গের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কাজী ফার্মস। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবস্থিত ফিডমিলটির সামনে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ জড়ো হয়ে মিছিল ও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ফিডমিলের তিনজন কর্মী আহত হন। হামলাকারীরা কারখানার ভেতর থেকে কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও লুট করে নিয়ে যান। ঘটনার পর বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহযোগিতা করেন। মিছিলকারীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরি দেওয়ার দাবি জানায় এবং কর্মী ছাঁটাই বন্ধের কথা বলে। কাজী ফার্মস জানায়, পঞ্চগড়ের ওই ফিডমিলে বর্তমানে মোট ৩৭০ জন কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে ১৩৫ জন পঞ্চগড়ের বাসিন্দা; অন্যরা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। গত ছয় মাসে এই ফিডমিল থেকে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি। উত্তরবঙ্গে কাজী ফার্মসের ৩২টি মুরগির খামারসহ মোট ৪৩টি পোল্ট্রি স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। উত্তরবঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি এ অঞ্চলে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজী ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গাজী এম শামসুদ্দীন বলেন, এই ফিডমিল থেকে কাজী ফার্মসের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ মিলটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব না হলে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পোল্ট্রি খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি-এ ধরনের হামলার পেছনে কোনো অপশক্তি কাজ করতে পারে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দেশের পোল্ট্রি খাতের বিকাশের স্বার্থে ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা এবং দ্রুত ফিডমিলটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি। ফিডমিলটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পোল্ট্রি খাত ও সংশ্লিষ্ট খামারিদের ওপরও পড়তে পারে।



