নিখোঁজের ৪দিন পর পুকুরে মিলল কলেজশিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে নিখোঁজের ৪ দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) নামে এক কলেজশিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর এলাকায় নিজ বাড়ির পেছনের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান ওই এলাকার মো. ফরহাদ চৌধুরী ও রিতা ইয়াছমিন দীপা দম্পতির ছেলে। এছাড়াও দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রয়াত মো. রোকন উদ্দিন চৌধুরীর নাতি ও রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানের মামাতো ভাই। রোহান রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খাবারের সময় রোহানের মুঠোফোনে একটি কল আসে। খাবার খেয়ে বিকেল ৪টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার ফোনে কল করেন। তখন তার দুটি মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। একটি অ্যান্ড্রয়েড ও অপরটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন রোহান। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা লাঠি দিয়ে বস্তায় ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গত ৫ অক্টোবর বিকেল থেকে রোহান নিখোঁজ ছিল। তার বাবা পরদিন গত ৬ অক্টোবর থানায় জিডি করেছিল। কিন্তু ভিকটিমের ফোন বন্ধ থাকায় তার লোকেশন ডিটেক্ট করা যাচ্ছিল না। কিন্তু তারপরও আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে কাজ করছিলাম। আজ সন্ধ্যার আগে নিখোঁজ ওই যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ তার বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, মরদেহ একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে মরদেহের বস্তার সঙ্গে বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখতে পান।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ অক্টোবর থেকে রোহান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি নাÑএসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এখনও হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।



