অবরোধ-নিষেধাজ্ঞা শেষে উন্মুক্ত সাজেক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ অবরোধ ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞায় চারদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথমদিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ৭৩০ জন পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেন বলে জানিয়েছে বাঘাইহাট জোন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা পরিবর্তন করে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটক ও যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। এরপর দুদিন কর্মসূচি বন্ধ রাখার পর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন নগরী সাজেকে ফের ১৫ অক্টোবর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। পর্যটন নগরী সাজেকের মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সারা দেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক অবরোধের স্থগিত কথা জানান। এর আগে সাজেকে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে এবং সাজেকে ধারাবাহিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। বলে রাখা ভালো; সাজেক প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ অধ্যুষিত অঞ্চল এবং সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ সমর্থিত সংগঠন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সাজেক ভ্যালি পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মন জানান, দীর্ঘদিন পর্যটক শূন্য থাকায় পাহাড়ের পর্যটনখাত ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে পূজার ছুটিতে পর্যাপ্ত পর্যটক এলে গত কয়েক দিনের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে পূজার ছুটি ঘিরে সাজেকের সিংহভাগ রিসোর্ট ও কটেজের রুম বুকিং শুরু হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

