স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের ফ্যাসিস্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

# তদন্ত কমিটি গঠন #

খলিলুর রহমান সুমন ঃ নগরীর খালিশপুর নিউ মার্কেটের চা বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, অধ্যক্ষ তাসরিনা বেগমের আচার আচরণ একদম ভাল নয়। সবার সাথে তিনি খারাপ আচরণ করেন। কর্মরত স্টাফ ও শিক্ষকদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না। সারা দিন দলাদলি করে খালিশপুরের ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটির বারোটা বাজিয়েছেন তিনি। তিনি এখানে থাকলে স্কুলের ভবিষ্যত অন্ধকার ছাড়া আর কিছু পাব না বলে তিনি মনে করেন। একই কথা বললেন স্কুলের সাথে গড়ে ওঠা খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটির সাঃ সম্পাদক আল আমিন। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের কারণে স্কুলের মেয়েরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। লেখাপড়া বাদ দিয়ে অধ্যক্ষ আছেন শুধু দলাদলিতে। তিনি নিজের সপ্তম শ্রেনীর পড়–য়া মেয়েকে অন্য স্কুলে নিয়ে গেছেন। নিজের অনিয়ম ঢাকতে স্কুলের কোমলমিত ছাত্রীদের তিনি নিয়ে নগরভবনে যান। তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। লেখাপড়া বাদ দিয়ে তিনি এসব কাজে বেশ পটু। আগে আ’লীগের সক্রিয় কর্মীর মত কাজ করতেন, তখন আ’লীগ ছাড়া অন্য কোন দল চিনতেন না। এখন আবার বিএনপির লোক হতে নেতাদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। এখন তিনি বিএনপি ছাড়া অন্য কোন দল চেনেন না। একজন শিক্ষকের এমন চরিত্র দেখে ছাত্রীরা কি শিখবে। ছাত্রীরাও তো তার মত মিথ্যাচার ছলচাতুরতা করতে শিখবে। এই স্কুলটি বাঁচাতে অবিলম্বে তাকে এখান থেকে বদলীর করার জোর দাবি জানান তিনিসহ আরো অনেকে। তার এসব অনিয়ম দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর অভিভাবক শাহমিনা ইয়াসমিনের দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাসলিমা খাতুন তিন মাসের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন যোগ্য অধ্যক্ষ না পাওয়ায়, তাৎক্ষনিকভাবে তাকে তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সুযোগে তিনি স্কুলকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছেন। বর্তমানে উক্ত স্কুলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সংখ্যা ১৫-১৬ জন মাত্র। তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তা হলো- বিভিন্ন কোচিং এর নিকট থেকে টাকা নিয়ে ছাত্রীদের সেখানে টাকার বিনিময়ে পড়তে পাঠিয়ে দেন। সিটি কর্পোরেশনকে না জানিয়ে স্কুলে কনসার্টসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা। বিদ্যালয়ের বেতন খাতায় ছাত্রীদের বেতন না তুলে, সেই অর্থ আত্মসাত করা। অভিভাবকগণের সাথে খারাপ ব্যবহার করা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান হলে তাতে ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদানের কথা দিয়ে, সেই অর্থও আত্মসাত করেন। অর্থের বিনিময়ে অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল বর্হিভূত কাজে অধিকাংশ সময় ব্যয় করা। স্কুলের বাস, জেনারেটর, ওয়াশরুম, চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ কোন কিছুই মেরামত না করা। স্কুলের শিক্ষিকা মঞ্জুলিকা জামালীর দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কথায় কথায় শিক্ষকদের চাকুরী থেকে অপসারনের হুমকি। আওয়ামী সমর্থক ও তার স্বামী নূরুদ্বীন আল-মাসুদ (মৃত) ডুমুরিয়ার শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীপন্থি চেয়ারম্যান ছিলেন। অধ্যক্ষের শিক্ষা জীবনে ৩য় বিভাগ আছে। যা চাকুরী বিধি মোতাবেক, ৩য় বিভাগধারী কেউ অধ্যক্ষ হতে পারে না। গত ৯ জানুয়ারী তার চাকুরীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নানা অনৈতিক ও অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছেন। তারমধ্যে অধ্যক্ষের পক্ষে কথা বলার জন্য কোমলমতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিটি কর্পোরেশনে যেতে বাধ্য করা। তার চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষে অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছে যা একজন অধ্যক্ষের জন্য কোন ভাবেই শোভনীয় নয়। তার এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের জন্য যথেষ্ঠ। ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ সংগ্রহ করা। যার কোন ভাউচার ও প্রমান নেই। গত ২ জানুয়ারী অভিভাবক জাহিদ, মোস্তাফিজসহ পাঁচজনের দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, খালিশপুর তথা খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি অবস্থানগত এবং অবকাঠামোগত দিক হতে নারী শিক্ষা সমৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অনেকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তাসরিনা বেগমের নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও দুর্ব্যবহার কলেজের সার্বিক উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করছে। কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি, কথায় কথায় অভিভাবকদের অপমান, শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ প্রয়োগসহ তার নানা অপকর্ম শৈক্ষিক পরিবেশকে দারুনভাবে বাঁধাগ্রস্থ করছে। তার এহেন আচারণ ও কর্মকান্ডে এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল ক্ষুব্ধ। কিছুদিন পূর্বে কলেজের শিক্ষক মঞ্জুলিকা জামালীকে অপমান করে কলেজ হতে বের করে দিয়েছেন তিনি। তার এ পদক্ষেপে অভিভাবক মহল ক্ষুব্ধ। আমরা অভিভাবক মহল প্রতিষ্ঠানসহ সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য বর্তমান অধ্যক্ষের অপসারণসহ দক্ষ ও অভিজ্ঞ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবী করছি। তারই আলোকে কর্তৃপক্ষ তদন্ত টিম গঠন করেছেন। শিক্ষক মঞ্জুলিকা জামালী অভিযোগ দাখিলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্কুলটি ধ্বংস করার জন্য যা যা করার তা অধ্যক্ষ করছেন। গত ২২ জানুয়ারী কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেন। কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার রহিমা সুলতানা বুশরাকে এ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অধ্যক্ষ তাসরিনা বেগমের বিরুদ্ধে মোঃ জাহিদুর রহমানসহ পাঁচজন অভিভাবক কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলো। অধ্যক্ষ তাসরিনা বেগম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ও আমার স্বামী আওয়ামী পরিবারের সদস্য। স্কুলটি ভাল করতে চাই সে জন্য একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।” এ সময় প্রতিবেদক স্কুলের বারান্দায় গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। একাধিকবার কর্মচারিরা প্রতিবেদকের আগমের কথা বলতে গেলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে তাদের ফেরৎ পাঠান। অবশেষে আধা ঘন্টা পর অধ্যক্ষের রুমে গিয়ে দেখা যায় তিনি কোন জরুরী প্রয়োজন ছাড়াই একান্ত নিজস্ব কাজে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন। মহানগর বিএনপি নেতা আবুল কালাম জিয়ার সাথে তিনি একান্তে কথা বলছিলেন। প্রতিবেদক তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি আ’লীগ নেতার সাথে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেন। ৫ আগস্টের পরও আ’লীগ নেতারা অধ্যক্ষের জন্য তদ্বির করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button