স্থানীয় সংবাদ

সাবেক মেয়রের খালেকের ধর্মপুত্র শিক্ষক কর্মকর্তার পুষ্পজিৎ মন্ডলের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও হাবিবুন নাহারকে পিতা বলে সম্বোধন করা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কর্মকর্তা পুষ্পজিৎ মন্ডলের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি নিয়ে খুলনা দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন সময় তিনি আওয়ামী নেতাদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে কর্মরত রয়েছেন। এলাকাবাসির দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি নানা অন্যায়, অত্যাচার ও অপকর্মের সাথে জড়িত। যার মধ্যে রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ঝখওচ এর ২০ হাজার টাকা করে ৭১টি বিদ্যালয় থেকে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। একই অর্থ বছরের প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন শিক্ষকদের মাধ্যমে। ৭১টি বিদ্যালয়ের ঝখওচ থেকে সাত হাজার টাকায় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে ২১ হাজার পাঁচ শত টাকায় বিক্রয়। এছাড়া তালুকদার আঃ খালেক ও হাবিবুন্নাহারের ছবি ক্রয় ও বিদ্যালয়ে টানিয়ে রাখতে বাধ্য করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক দিগন্ত প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র থেকে দু’ লক্ষ পয়ষট্টি হাজার টাকা জোর পূর্বক আদায় করেন। তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেগম শামসুন্নাহারকে ২০১৬ সালে ক্ষমতাচ্যুৎ করে নিজে ক্ষমতায় বসেন। ক্ষমতায় বসে ৫ টাকার প্রশ্নপত্র ৭ টাকায় বিক্রয় করেন এবং তদন্তপূর্বক দায়ী হওয়ায় তৎকালিন মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল দু’টা ইনক্রিমেন্ট কর্তন করেন। উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব কুমার মন্ডলের সাথে তার নিজ কার্যালয়ে হাতাহাতি করেন। পরে সালিশ বিচারে তিনি দায়ী হন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুমন্ত পোদ্দারকে অন্যত্র বদলীর জন্য সুপারিশ করেন। ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৩৪টি বিদ্যালয়ে মাইনর মেরামত বাবদ দু’ লক্ষ টাকা করে পান। তা থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুমন্ত পোদ্দারের সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে উত্তোলন করেন এবং পরে সে টাকা ৩ জনে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। সে রামপালের ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে চাকুরীতে ঢোকেন। কিন্তু বাস্তবে সে মোংলা উপজেলার বুড়িরভাঙ্গা ইউনিনের ৫ নং সার্চের স্থায়ী বাসিন্দা। এছাড়া তার স্ত্রী লাবনী মন্ডল একই উপজেলায় অর্থাৎ মোংলার বিদ্যার বাহন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ২০১৬ সাল থেকে অদ্যবদি তার নামে অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে পেপার ফ্লাশ ও অভিযোগ উঠেছে বহুবার এবং তদন্তও হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে ২০২৩ সালে নানা অনিয়মের দায়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে স্ট্যান্ড রিলিজ হন এবং কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে তা রোধ করা হয়। তিনি সব সময় ক্ষমতার পাশে থেকে দালালি করে সবার সেরা হতে চান। শিক্ষক কর্মকর্তা পুষ্পজিৎ মন্ডল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা যেহেতু সমাজপতি ছিলেন। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্কুলে আসলে তিনি তাদের যথাসম্ভব সম্মান ও মেহমানদারি করতেন। তার বেশী কিছু নয়। যারা এসব অভিযোগ করছে তার কোন সত্যতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button