খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন

# অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি, খুলনার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচলাবস্থা শীর্ষক শিরোনামে বিভিন্ন স্থাণীয় ও জাতীয় পত্রিকায় গত ৭ আগস্ট সংবাদ প্রকাশিত এবং সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মো: মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতি অভিযোগ এনে খুলনা ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীগণ গত ১২ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালকের বারবার। এ অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মো: মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক চিঠি প্রদান করেছেন। চিঠিতে তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা: এস এম শাহরিয়া ( প্রশাসন) এবং সদস্য দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুদীপ বালা নাম উল্লেখ করা হয়। একই সাথে তদন্ত কমিটিকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য দপ্তরের প্রধান মোহা: শওকত হোসেনকে নিদের্শ প্রদান করা হয়। গত ১৭ আগস্ট খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ভারপ্রাপ্ত ডা: মো: মুজিবুর রহমান এর স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এক দাপ্তরিক পত্রে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যার স্মারক নং-৪৫.৪০.০০০.০০২.২৭.০০৫.২৫-১৫৩৩ (৬) খুলনা জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৭৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কর্তৃক খুলনা সিভিল সার্জন অফিস এর হিসাবরক্ষক মো: মাহফুজুর রহমান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতি, বকেয়া ১৩ মাস বেতন বাকি রেখে হঠাৎ সিভিল সার্জন কর্তৃক আউটসোর্সিং কর্মচারিদের চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদে শান্তিপুর্ণ মানববন্ধন ও অবস্থা কর্মসূচি স্থাণীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি, খুলনা ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচলাবস্থা প্রকাশিত সংবাদের কপিসহ নি¤œ স্বাক্ষরকারীগণ খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক বরাবর গত ১২ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। লিখিত অভিযাগে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মো: মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলা করিয়ে ঘুষ আদায়, বেতন ফাইল পক্রিয়ায় ঘুষ দাবী, মেয়াদ বৃদ্ধির ফাইল আটকিয়ে ঘুষ দাবীসহ মোট ৭টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ( স্বাস্থ্য ) পরিচালক ডা: মো: মুজিবুর রহমান বলেন, খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক মো: মাহফুজুরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতি অভিযোগ এনে খুলনা ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীগণ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আশাকরি তদন্তকারী কর্মকর্তারা খুব দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।
খুলনা দাকোপ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ওই তদন্ত কমিটির সদস্য ডা: সুদীপ বালা বলেন, খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মাহফুজুরের বিরুদ্ধে অনিয়য়ম ও দুর্ণীতির বিষয়ে তদন্তের জন্য আমাকে খূলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়েছেন। তদন্তকারী প্রধান ডা: শাহরিয়া স্যারের সাথে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে যাতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারি। যদিও চিঠিতে সময় নির্ধারণ করে দেয়নি, তাই বলে আমরা কোন ঢিলেমী করবো না। মাহফুজুর বিরুদ্ধে ফাইন্যান্সসিয়ান বিষয়ে দুর্ণীতির অভিযোগও আছে। সব কিছু মাথায় রেখে আমরা যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত কওে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিবো।
তবে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমান বরাবরই তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা সত্য না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় বেকয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি . খুলনার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচলাবস্থা’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ৬ আগষ্ট (বুধবার) আন্দোলনরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা খুলনায় এসে নগরীর শামসুর রহমান রোডস্থ সিভিল সার্জন অফিসের সামনে অবস্থান, মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় শ্লোগান ও বক্তৃতা দেন। তাদের অভিযোগ, খুলনার সিভিল সার্জন গত ২৯ জুলাই এক চিঠিতে আউট সোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি নেই বিধায় তাদেও বেতন দিতে তিনি দায়বদ্ধ নন বলে জানান। খুলনা সদর ও ৯ উপজেলায় ২১৪ জন কর্মচারী ১৩ মাস যাবৎ বিনা বেতনে চাকরি করছেন। তারা নিরলসভাবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহি:বিভাগ, ওয়ার্ড, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। তারা যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, তার স্বপক্ষে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। বক্তারা বলেন, তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি করার কথা অর্থবছরের শুরুতে জুলাই আগস্ট মাসে। কিন্তু হিসাবরক্ষক মাহফুজ সেই চিঠি আটকে রেখে, অর্থবছরের শেষে জুন মাসে ঠিকাদারদের ডেকে টাকা দাবি করেন। তিনি অন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে মোটা অংকের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তাদেরকে কাজ দেয়ার পায়তারা করছে। সিভিল সার্জনের সাথে ঠিকাদারের করা চুক্তিপত্রে রয়েছে, পরবর্তী ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো কর্মচারীরা কাজ করবে। সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো- বকেয়া ১৩ মাসের বেতন দ্রুত প্রদান করতে হবে, তাদেরকে চাকরিতে বহাল রাখতে হবে এবং দুর্ণীতিবাজ হিসাবরক্ষক মাহফুজকে আগামী ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে স্থায়ীভাবে অপসারণ করতে হবে।



