যশোরে চৌগাছায় লাখ টাকা দাবি চক্রের দুই নারীসহ ৫সদস্য আটক

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের চৌগাছা পুড়াবাজারে কসমেটিক্স সামগ্রী ব্যবসায়ী আনোয়ার ইকবাল (৪০) নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে অবৈধভাবে আটক রেখে চক্রের এক নারী সদস্যকে পাশে অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় রেখে ভিডিও ধারণ করে ১লাখ দাবি করে। টাকা না দিলে মারপিট করায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সাহায্য চাইলে ডিবি পুলিশের একটি চৌকসদল দুই নারীসহ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন, চক্রের শিকার আনোয়ার ইকবালের ভাগ্নে একই উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে নাছিম রেজা। পুলিশ চক্রের দুই নারী সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে। এরা হচ্ছে, যশোর সদর উপজেলার নুরপুর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত আবুল তালেবের ছেলে শফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের জাফরের ছেলে কালু, রমজান শিকদারের ছেলে সুলতান ওরফে শান্ত, চৌগাছা উপজেলার ইছাপুর ৪নং ওয়ার্ডের শাফাউদ্দিনের মেয়ে মোছাঃ শারমিন ও একই থানার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ রোজিনা আক্তার রুপা। এ সময় তাদের অপর সহযোগী যশোর সদর উপজেলার নুরপুর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের শুকুর আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোশারফ শিকদারের ছেলে মিরাজ শিকদারসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে।
মামলায় বাদি উল্লেখ করেন,তার মামা আনোয়ার ইকবাল চৌগাছা উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারে কসমেটিক্স সামগ্রীর ব্যবসা করেন। অনুমান ১ মাস পূর্বে উল্লেখিত আসামী মোছাঃ শারমিন বাদির মামার দোকানে যেয়ে তার সাথে কথাবার্তার এক পর্যায়ে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে। বাদির মামার ব্যবহৃত মোবাইল হতে শারমিন এর তার ব্যবহৃত মোবাইল এ কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে গত ২০ আগষ্ট বুধবার দুপুর ১.২৫ সময় উক্ত আসামী বাদির মামাকে যশোর শহরস্থ খয়েরতলা মোড়ে দেখা করার জন্য আসতে বলে। বাদির মামা সরল বিশ^াসে দুপুর পৌনে ৩ টার সময় যশোর শহরের খয়েরতলা মোড়ে এসে উক্ত আসামীর সাথে যোগাযোগ করলে উল্লেখিত মোছাঃ শারমিন ও রোজিনা আক্তার রুপা খয়েরতলা মোড়ে এসে বাদির মামা আনোয়ার ইকবাল এর দেখা করে। উক্ত আসামীদ্বয় বাদির মামাকে নূরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কাশেম মোড় নামকস্থানের জনৈক শুকুর আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া পলাতক আসামী মিরাজ শিকদার এর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। উল্লেখিত ঠিকানায় বাসা যাওয়ার পর উল্লেখিত ৬ আসামী রোজিনার ভাড়া বাসার একটি রুমে মধ্যে আটকে রেখে এলোপাতাড়ী মারপিট শুরু করে। এক পর্যায় শারমিনকে বাদির মামার পাশের্^ রেখে উভয়কে অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় রেখে আসামীরা ভিডিও ধার করে এবং ১লাখ টাকা দাবি করে। তারা বাদির মামাকে বলে টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিবে। পরে আসামীরা আনোয়ার ইকবালের মোবাইল থেকে বাদির মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করে নগদ ১লাখ টাকা পাঠাতে বলে। বাদির মামাকে মারপিট শুনাতে থাকে। বাদি জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশের স্মরনাপন্ন হলে ডিবি’র একটি টিম অভিযান চালিয়ে যশোর খয়েরতলা এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম ও কালুকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেখানো ও স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাকি চক্রের উল্লেখিত আরো ৩জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ার আগে বাদির মামা আনোয়ার ইকবালকে ছেড়ে দেয়।



