তালায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বৃদ্ধের মৃত্যু : অসুস্থ ৬

তালা প্রতিনিধি ঃ তালার শ্রীমন্তকাটি গ্রামে খাদ্যের বিষক্রিয়ায় বিলায়েত হোসেন গাজী (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসময় অসুস্থ হয়েছে একই পরিবারের শিশু ও নারী সহ আরও ৬জন । অভিযোগ উঠেছে, পাশ^বর্তী সিরাজুল শেখ নামের এক লম্পট অসৎ স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই পরিবারের সকলকে মেরে ফেলার জন্য খাবারে বিষ প্রয়োগ করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সহ তার পরিবারের সকলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
শ্রীমন্তকাটি গ্রামের হাসানুর রহমান জানান, একই গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লম্পট সিরাজুল ইসলাম গ্রামের একাধিক নারীকে উত্ত্যাক্ত করা সহ অনেকের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তাদের সংসার ভেঙ্গেছে। এই সিরাজুল বিগত ১ বছর ধরে বিলায়েত গাজীর পুত্র জাহাঙ্গীর হোসেন এর স্ত্রীকে উত্ত্যাক্ত করা সহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে ওই নারী রাজি না হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম নানাভাবে হুমকি দেয় এবং পরিকল্পিতভাবে বিলায়েত গাজীর ভাতের হাড়িতে বিষ প্রয়োগ করে। বিষ মিশ্রিত ওই ভাত খেয়ে বিলায়েত গাজী চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান। এঘটনায় গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
বিলায়েত গাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর গাজী জানান, লম্পট সিরাজুল শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে উত্ত্যাক্ত করা সহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে তার স্ত্রী রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি সে তার স্ত্রীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হবার পর থেকে সিরাজুল শেখ আমাদের পরিবারের সকলকে মেরে ফেলবে বলে দফায় দফায় আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হুমকি দেয়।
জাহাঙ্গীর গাজী আরও বলেন, গত শনিবার দুুপুরের দিকে জাহাঙ্গীর কৌশলে আমাদের রান্না করা ভাতের হাড়িতে বিষ মিশিয়ে দেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেই ভাত খাবার পর আমি সহ একে একে আমার বৃদ্ধ পিতা বিলায়েত গাজী (৭০), মা ছবিরন বিবি (৫৫), আমার স্ত্রী রুনা বেগম (২৭) ও শিশু ছেলে সামিউল গাজী (৫), আমার ছোট ভাই দিদারুল ইসলাম’র স্ত্রী ফারজানা বেগম (২৩) ও তার ছেলে রেহান বাবু (৩) অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। বিষয়টি জানার পর প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে ওই রাতে আমাদের ৭জনকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করান। রোববার দুপুরে পিতা বিলায়েত গাজীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে বিলায়েত গাজী মারা যান। এঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষের মাঝে শোক এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল শেখ সহ তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে তালা থানা পুলিশের তত্বাবধানে বিলায়েত গাজীর মৃতদেহ খুমেক থেকে ময়নাতদন্ত করে বাড়িতে আনা হয় এবং মাগরিব নামাজবাদ জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এঘটনায় তালা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।



