স্থানীয় সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেনশন পুন:স্থাপনের ক্ষেত্রে বৈষম্য অবসানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেনশন পুন: স্থাপনের ক্ষেত্রে বৈষম্য অবসান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (বুধবার) বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোনালী ব্যংক পিএলসি অফিস খুলনার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মৃত ফিরোজ মুন্সীর স্ত্রী মাকছুদা ফিরোজ। তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠকালে জানান, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর পেনশন সমর্পনকারীদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনাপূর্বক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর উচ্চ সমর্পণকৃত পেনশন পুনঃস্থাপন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী/বিপতœীক স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান (যদি থাকে) পেনশন সুবিধা প্রাপ্ত হন। কিন্তু এর এক বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ‘সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর পেনশন পুন: স্থাপিত হয়ে থাকলে তার মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী/বিপত্মীক স্বামী পুনঃ স্থাপিত পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবেন’ বলে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে শতভাগ পেনশন বিক্রি করা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরেরপর ১৫ বছর জীবিত না থাকলে তার পেনশন পুনঃ স্থাপিত হবে না ও তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্মীক স্বামী পুনঃস্থাপিত পেনশনসুবিধাও পাবেননা। এর ফলে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি এটি একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত বলেও আমরা মনে করছি। কেননা যেখানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অবসরের পর পরিবারের সদস্যরা শুধুমাত্র পেনশনের অর্থেই চলে। সেখানে এমন সিদ্ধান্ত কিভাবে নেয় একটি সরকার? তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী মোঃ ফিরোজ মুন্সী, প্রিন্সিপাল অফিসার (অবঃ) সোনালী ব্যাংক লিঃ, খুলনা কর্পোরেট শাখা, খুলনা থেকে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আর্থিক সংকটে প্রাপ্য পেনশন অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তিনি ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। অবসরের ১৫ বছর তিনি জীবিত না থাকায় সরকারের পেনশন পুনঃস্থাপন থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমি একজন বিধবা নারী। আমার দুই মেয়ে। সাংসারিক খরচ, তাদের ভরনপোষণ ও শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় নিয়ে আমি বিপাকে পড়েছি। স্বামী না থাকায় সরকারের পেনশন পুনঃস্থাপন সুবিধা যেটা আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের শর্তের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এর মাধ্যমে একই আইনে আমাদের মতো অসংখ্য পরিবার (যাদের স্বামী/স্ত্রী অবসরের পর ১৫ বছর পর্যন্ত জীবিত নেই) পেনশন পুনঃস্থাপন সুবিধা বঞ্চিত হয়েছে। আমার মতো তাদের পরিবারে চলছে অন্ধকারের ঘোর অমানিশা।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button