স্থানীয় সংবাদ

মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট’র ভাই মাসুম সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেফতার ১

সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয় মাসুম
নানা অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রূপসায় যুবক ইমরান হোসেন মানিক হত্যাকা-ের ঘটনায় মামুনুর রহমান নামের একজনকে আটক করেছে রূপসা থানা পুলিশ। ৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পূর্ব রূপসা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মামুন বাগমারা এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে, মানিক হত্যাকা-ের ঘটনায় র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট’র ভাই মাসুম বিল্লাহ ও মিনা কামালের অন্যতম সহযোগী গোলাম কিবরিয়াসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। (৬ সেপ্টেম্বর) নিহতের ভাই মো. মাসুদ হাওলাদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামীরা হচ্ছে- রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা এলাকার আক্কেল আলীর ছেলে গোলাম কিবরিয়া (৩৯), একই এলাকার মৃত মিনহাজ মুন্সি শেখের ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৫০), খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে আব্দুল বাছেদ বিকুল (২৮), খালিশপুর বাস্তহারা কলোনী, রোড নং-১২, কাঁচা লাইন এলাকার মৃত কবির হোসেনের ছেলে অমিত ওরফে টোকাই অমিত (৩৬), রূপসার রামনগর এলাকার মৃত সোরহাব মোল্লা ও মাতা মিনারার ছেলে সাগর ওরফে বিল্লাল মোল্যা (৩০), বাগমারা মধ্যপাড়া এলাকার ইনছারাফ হোসেনের মেয়ে স্বর্ণালী আফরোজ স্বর্ণা (২৮) ও একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. ইয়ামিন (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত মো. ইমরান হোসেন মানিক চিংড়ি মাছের ব্যবসা করতো। সে রূপসার বিভিন্ন মাছ কোম্পানিতে সাব এজেন্টের মাধ্যমে মাছ বিক্রি করতো। এ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা এলাকায় মাদক বিক্রি করে। ইমরান হোসেন মানিক এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আসামি কিবরিয়া ও মাসুম বিল্লাহ’র হুকুমে সহযোগী আসামীদের পরিকল্পনায় ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১ টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামস্থ জয়পুর এয়ারটেল টাওয়ারের পাশে জনৈক রেজাউল মাস্টারের বাড়ির উত্তর পাশে রাস্তার উপর পৌছানো মাত্রই উক্ত আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন একত্রিত হয়ে মোটর সাইকেল যোগে উক্ত স্থানে এসে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মানিককে পিস্তল দিয়ে গুলি করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। যদিও নিহত মানিক সন্ত্রাসী বাহিনী বি-কোম্পানির ক্যাডার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাসুম বিল্লাহ’র বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ : ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর র‌্যাব-৬ এর পুলিশ পরিদর্শক রমজান আলীর নেতৃত্বে একটি দল ভোরে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিন্ডলসহ মাস্টার মাইন্ড মাসুমকে গ্রেফতার করে। ৯০’র দশকে রামপালের ফয়লায় রেনু পোনার বাস ডাকাতির মাষ্টার মাইন্ডও মাসুম বিল্লাহ। ওই সময় বাস ডাকাতিকালে ৫জন হত্যার ঘটনায় মাসুমের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
প্রায় দেড় যুগ আগে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রূপসার আক্তার হোসেন খানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার মুলহোতাও ছিলেন এই মাসুম বিল্লাহ- এমন অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।
যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের কিছু অসাধু নেতাদের ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকা- করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই মাসুমের অত্যাচারে এলাকায় কোন লোক ভয়ে কথা বলতে সাহস পর্যন্ত পায়না। এর অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। মাসুম বিল্লাহ অবৈধ পথে এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা এবং অনেক জমিজমার মালিক বনে গেছে। এমনকি তার মহাজনি প্রভাব থাকার কারণে এলাকার মানুষকে মুল্যায়ন পর্যন্ত করে না- এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও মাসুমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মানিক হত্যাকা-ের ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মামুন নামের একজনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। নিহতের ভাই ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button