একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে আমি গর্বিত ব্রিটিশও: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন দেশটির মুসলিম বংশোদ্ভূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝযধনধহধ গধযসড়ড়ফ (শাবানা মাহমুদ)। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক অভিবাসী প্রেক্ষাপট যুক্তরাজ্যের সমাজে নীতি, ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। লেবার পার্টি কনফারেন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া তার এই বক্তব্যে তিনি বলেন, “একজন গর্বিত মুসলিম হওয়ার পাশাপাশি আমি একই সাথে একজন গর্বিত ব্রিটিশ এবং বার্মিংহামের নাগরিক। ন্যায়বিচারই আমাদের যুক্তরাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ রাখে।” বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ও নীতিগত ঘোষণা: ১. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক পটভূমি: কাশ্মীর থেকে ব্রিটেনে আসা অভিবাসী পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে যুক্তরাজ্যের সমাজে নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। শাবানা মাহমুদ জানান, তার পরিবার ব্রিটেনে এসেছিলেন উন্নত জীবনের এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়। তার এই পারিবারিক অতীত ও ধর্মীয় পরিচয় ব্রিটেনের অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সাহায্য করছে। ২. অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা ও ন্যায়বিচারের ভারসাম্য: যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, অবৈধ মানব পাচার ও চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নৌকা ঠেকানোর পাশাপাশি আইনি উপায়ে ব্রিটেনে আসা মানুষদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ৩. ফিলিস্তিনি ও আফগান নারীদের জন্য বিশেষ আইনি সুযোগ: তিনি ঘোষণা করেন, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করে ফিলিস্তিনের গাজা থেকে আসা শরণার্থী এবং তালেবান সরকারের নিপীড়নের শিকার আফগান নারী ও মেয়েদের অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নিরাপদ ও আইনি পথ (ঝধভব ধহফ খবমধষ জড়ঁঃব) তৈরি করা হচ্ছে। ৪. বর্ণবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেন জুড়ে দেখা দেওয়া চরমপন্থী ও মুখোশধারী বর্ণবাদীদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মুখোশধারী বর্ণবাদীদের দেখলে আমি নিজেও ঘৃণা ও আতঙ্ক অনুভব করি।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে মুসলিমদের পাশাপাশি ব্রিটেনে বসবাসরত ইহুদি সমাজসহ সব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি এবং বর্ণবাদবিরোধী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শাবানা মাহমুদ বলেন, “আমাদের দেশ যখন সবার জন্য সমান ও ন্যায়সঙ্গত হবে, তখনই সমাজ অন্যদের প্রতি আরও উদার ও পরোপকারী হয়ে উঠবে।”



