পরিবারে আনন্দ নামলেও খরচ নিয়ে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

খুলনায় এক সঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম
দিঘলিয়া প্রতিনিধি : খুলনার দিঘলিয়ায় একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন চাঁদনী বেগম (২০) নামে এক গৃহবধু। ফুটফুটে তিন সন্তানকে পেয়ে পরিবারে আনন্দের বন্যা বইলেও অসচ্ছলতার কারণে আনন্দের মধ্যেই তাদের চিকিৎসা, খাবারের খরচ জোগানো ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। চাঁদনী বেগম উপজেলার পানিগাতি গ্রামের দিনমজুর জাহিদুলের স্ত্রী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় উপজেলার পথের বাজার সার্জিকাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে নয়টার দিকে স্বাভাবিক ভাবে তিন কন্যা সন্তান-ফাতেমা, আমেনা ও আয়শার জন্ম হয়। বর্তমানে নবজাতকরা সুস্থ আছে বলে কর্মরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার পানিগাতি গ্রামে দিনমজুর স্বামী জাহিদুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই পরিবারের প্রথম পুত্র সন্তান রায়হান, ১৭ মাস বয়স।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির ওষুধ ও তিন শিশুর গুঁড়াদুধ বাবদ প্রতিদিন বাবদ যে খরচ হবে তা আমাদের কাছে কষ্টকর। দিনমুজরী স্বামীর সামান্য আয়ে এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এদিকে, তিন নবজাতক ও তাদের মা সুস্থ থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সন্তানদের সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
পথের বাজার সার্জিকাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মুশতারি পারভীন বলেন, “প্রথম সন্তান জন্ম গ্রহণের ১০ মিনিট পর দ্বিতীয় সন্তান এবং তার ২ মিনিট পর তৃতীয় সন্তানের জন্ম হয়। তিনটি সন্তানই স্বাভাবিক ভাবে জন্মগ্রহণ করেছে। বর্তমানে মা ও তিনটি শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এস কে নুর মোহাম্মদ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্মের ঘটনা এই প্রথম। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্ত বলেন, বুধবার তিন কন্যা সন্তানকে দেখতে যাব। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।



