স্থানীয় সংবাদ

ফুলতলা ভূমি অফিসের মতিউরের চালানপত্র কান্ড ফাঁস : তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সার্টিফিকেট সহকারী মতিউরের ব্যাংকের চালানপত্র ও সীল স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনাটি পুরো খুলনা জুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসে কর্মরত সার্টিফিকেট সহকারী মতিউর রহমান ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিসে সার্টিফিকেট সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। তবে মতিউরের এই দূর্নীতির মাত্রা সীমাহীন পর্যায় পৌঁছিয়েগেছে তা জানা ছিলো না কারও। ফুলতলা থেকে পাইকগাছা বদলি হওয়ার পর আস্তে আস্তে মতিউরের নানা দূর্নীতির তথ্য উঠে আসছে।
ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সার্টিফিকেট সহকারী মতিউর রহমান মূলত ফুলতলায় অর্পিত সম্পত্তির কাজ করতেন। ফলে বাৎসরিক অর্পিত সম্পত্তির লিজের টাকাসহ ব্যাংকের চালান পত্র সব কিছুর দেখভাল করতো মতিউর । এ সুযোগের অপব্যবহার করেন এই কর্মচারি। ডিসি আর বই নং-০১/২৪-২৫ পাতা ২৯৬০৫৬ থেকে ২৯৬০৫৯ এর অর্পিত সম্পত্তি (ভূমি ও বাড়ী) শাখার ১৫ হাজার একশত এগার টাকা ব্যাংক চালান না দিয়ে বরং সোনালী ব্যাংকের চালানপত্র, সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে হুবুহু চালানপত্র তৈরি করে উপজেলা ভূমি অফিসে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা রাখে। এরকম কয়েকটি চালানপত্র জালিয়াতি করে মতিউর। ভূমি অফিসে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারি জানান, ভূঁয়া চালানপত্র তৈরি করে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা গায়েব করেছে মতিউর রহমান। একটি অভিযোগের সূত্র ধরে মতিউরের চালানপত্র জালিয়াতির থলের বিড়াল একের পর এক বেড় হয়ে আসছে বলে জানাযায়।
ফুলতলা ভূমি অফিসে সাবেক কর্মরত আরেক কর্মচারি নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, শধু চলতি অর্থ বছর নয়, মতিউরের ফুলতলা ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকে বদলি পর্যন্ত প্রত্যেকটি অর্পিত সম্পত্তির ব্যাংক চালানপত্র যাচাই বাছাই করলে আরও জাল-জালিয়াতির তথ্য উঠে আসবে। তবে মতিউর রহমান এ দূর্নীতির অনিয়মের পিছনে শুধু একা দায়ি নয়। এর পেছনে এক নারী কর্মচারি রয়েছে ।
বিষয়টি নিয়ে সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম গোলাম কুদ্দুস জানান, ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিসের অর্পিত সম্পত্তির ব্যাংক চালানপত্র জালিয়াতির সাথে আমার ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আর ব্যাংকের কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি কেউ করলে ওই কর্মকর্তা চাইলে মামলা করতে পারবে।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তের আগে কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
এদিকে পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী মতিউর রহমানের মুঠোফোন নাম্বারে কয়েকদফা কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেনি। ফলে তাঁর মন্তব্য জানা যায় নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button