স্থানীয় সংবাদ

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা : থাকেন এসি বাড়িতে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার গাইনী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ শামছুন নাহার লাকির লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার গৃহকর্মী আকলিমা খাতুনের বিরুদ্ধে। ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে একই স্থানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে সব মিলিয়ে প্রফেসর ডাঃ লাকির বাড়ি থেকে আত্মসাৎ করেছে প্রায় কোটি টাকা। বানিয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স, বীমা, সম্পত্তি ও বাড়ি। এছাড়াও গৃহকর্মী আকলিমা তার পরিবারের লোকজনদের লাখ লাখ টাকা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গৃহকর্মী আকলিমার টাকা আত্মসাতের এমন অপরাধ সকলের সামনে আসার পর অতিরিক্ত চীফ মেট্রেপিলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রফেসর ডাঃ শামছুন নাহার লাকি। যার নং সিআর-৯৯৪/৯৫। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, প্রফেসর ডাঃ শামছুন নাহার লাকি খুলনা ৫৮/১ আহসান আহম্মেদ রোডে ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৩য় তলায় বসবাস করেন। উক্ত ভবনের ১ম ও ২য় তলায় তার ক্লিনিক ভিক্টরী নার্সিং এন্ড ইনফারলিটি ম্যানেজমেন্ট সেন্টার রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আকলিমা খাতুন ১৯৯৯ সালে থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসাসহ ৩৫০ টাকা বেতনে ডাঃ লাকির বাড়িতে গৃহপরিচালিকা হিসেবে কাজ করা শুরু করে। পরবর্তিতে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার বেতন দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার টাকায়। গাইনী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ শামছুন নাহার লাকি তার ডাক্তারি পেশায় ব্যস্ততা থাকার কারনে পরিবারের সকল দায়িত্বভার দেওয়া ছিলো গৃহপরিচালিকা আকলিমার কাছে। সংসারের যাবতীয় কাজসহ সকল খরচ তিনিই করতেন। বিশ^াসের সুযোগ নিয়ে প্রফেসর ডাঃ লাকির বাড়ি থেকে আস্তে আস্তে আকলিমা হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সংসারে খরচের কথা বলে প্রফেসর ডাঃ লাকির বাড়ি থেকে প্রায় সময়ই টাকা সরাতেন তিনি। এছাড়া ক্লিনিকের ম্যানেজারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে এই গৃহপরিচালিকা। গৃহপরিচালিকা আকলিমার এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলো তার পরিবারের সদস্যরাও। বিভিন্ন সময়ে বাকির দোকান থেকে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে তার ভাই আসলাম পাইক এবং ২ ছেলে আহাদ ও আজিম এর মাধ্যমে পাচার করা হতো। তার সিসি টিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর থেকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা করে নিয়েছে আকলিমা। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায় বিদ্যুৎ বিল প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার উপরে হয়নি। গৃহকর্মী আকলিমা শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিল থেকেই হাতিয়েছে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। সে প্রফেসর ডাঃ লাকির বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়েছে, প্রায় ৬ ভরি সোনা হাতিয়ে নিয়েছে। রূপসা এলাকায় ৬ কাঠা জমি কিনে গৃহকর্মী আকলিমা করেছেন একটি একতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ি। যেখানে ২টি রুমে এসি লাগানো। পাশাপাশি বাড়িতে মানুষের আনাগোনা দেখতে রয়েছে সিসি ক্যামেরা। এই বাড়ির ভেতরের অবস্থা দেখলে আরো চমকে যাওয়ার মত। দামী টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচার, আকাশ ডিস এন্টিনাসহ বিলাসী জীবন যাপনের সব ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে গৃহকর্মী আকলিমার বাড়িতে। প্রফেসর ডাঃ শামছুন নাহার লাকি জানান, আকলিমাকে সে সব থেকে বেশি বিশ্বাস করতো। তাই তার ছেলে-মেয়ে বড় করা, সংসার চালানো এবং ক্লিনিকের সকল দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিলো। ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে ঢাকায় তাদের নিজস্ব জীবনে প্রবেশ করেছে। ব্যস্ততার কারনে খুলনার বাড়ি ও ক্লিনিকে সকল দায়িত্ব আকলিমার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। সেই সুযোগে সে আমার বাড়ি থেকে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছে। আমি আকলিমাকে বিশ্বাস করতাম। সে এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছে। আমার টাকা চুরি করে আকলিমা আমাদের থেকেও দামী দামী কাপড়, জুতা ব্যবহার করতো। বিলাসী বাড়ি বানিয়েছে। সব কিছু আমার টাকা চুরি করে। জানাজানির পর এই টাকা চাইতেই আমার নামে নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সেখানে আমার ছেলে মেয়েদের নামও উলে¬খ করেছে, যারা গত ৬ মাস ধরে খুলনাতেই আসেনি। আমি এই বিশ্বাসঘাতকের বিচার চাই। প্রফেসর ডাঃ লাকির করা মামলার দায়িত্বে রয়েছেন তার ভাই আলিমুর রেজা লাবু। তিনি বলেন, আমার বোনের টাকা চুরি করে কোটিপতি হয়েছে আকলিমা। সে একটা প্রতারক। সে ও তার পরিবারের লোক এই কুকর্মের কথা স্বীকার করেছে। পরে তারা ৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে এবং জমি বিক্রি করে আরো টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছে তারা।তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোয়েছে, মামলা নং সি আর ৯৯৪/২৫। আমি চাই তার সম্পদের সঠিক তদন্ত করা হোক। তাহলেই বেরিয়ে আসবে কত টাকা আত্মসাৎ করেছে আকলিমা। এ ব্যাপারে আকলিমার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। তবে তার ছেলে আজিম বলেন, তাদের ঘরে একটি পুরাতন এসি লাগানো হয়। তবে তা নস্ট হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button