দৌলতপুরে জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার : দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে বুধবার সকাল ৯টায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়কের উপরে কাঁচাপাট রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রপ্তানি বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত এই মহাসড়কে ভারী যানবাহন সহ সকল গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় বক্তারা বলেন,কাঁচা পাট কৃষি পণ্য ১৯ ধারায় নেয়া মানে কাঁচা পাটকে ধ্বংসের চক্রান্ত। এই ষড়যন্ত্র কারীরা ইতিপূর্বে বিজেএমসির পাটকল গুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে ব্যক্তি মালিকদের উৎসাহিত করে পরিকল্পিত ভাবে অর্থ আত্মসাৎ এর সুযোগ করে দিয়েছে। যাতে করে এই ব্যক্তি মালিকানা পাটকল গুলো শ্রম আইনের বহিভূত শ্রমিকদের শোষণ করছে। দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু বলেন,কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যক্রমের সাথে দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান সম্পৃক্ত। কোন কারণে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করা হলে এই খাত সংশ্লিষ্ট ২লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়ে অস্থিরতা বিরাজ করবে। সরকারি পাটকল গুলো নিয়ম-নীতি মেনে যেভাবে বেতন, বোনাস ও গ্রাসুইটি দিতেন। কিন্তু বেসরকারি পাটকল মালিকেরা শ্রমিকদের কোনো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে দৈনিক ১৬০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা হাজিরা দিয়ে থাকেন। কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ হলে এ ধরনের বৈষম্য আরো বেড়ে যাবে। কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করা হলে পাটের দর ব্যপক কমে যাবে। যার ফলে এক দিকে যেমন এদেশের কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে পাট চাষে আগ্রহ হারাবে,অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ব্যহত হবে। কৃষকদের ও কাঁচা পাট রপ্তানীকারকদের ক্ষতিগ্রস্থ করে শুধু এক পক্ষকে সুবিধা প্রদান করার জন্য কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করা কোনক্রমেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।পাট হচ্ছে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ।যেটা বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশের প্রথম দেশের অর্থনীতিতে চাকাকে সচল রাখে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রপ্তানি পণ্য পাট ও পাট জাত পণ্য । এ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ করলে কাঁচা পাট এর সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সরকার রাজস্ব হারাবে। এ চক্রান্ত বন্ধ করে কাঁচাপাট রপ্তানিতে ১৯ এর ধারা মতে শর্ত যুক্ত করে পাটকে ধ্বংসের পায়তারা থেকে রক্ষা করার জন্য পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়কে সরে আসার দাবি জানান।তা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী প্রদানের হুসিয়ারী দিয়েছেন।সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার। সমাবেশে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু,সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা শেখ ইমাম হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন লাভলু, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল হোসেন,১১৫৫ নং ইউনিয়নের সিনিয়র মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ শরীফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির মুন্সী, আক্কাচ চাকলাদার,সালাম খান, যুগ্ম সম্পাদক শেখ সুজন, বাবা মাতুব্বর, কামরুল ইসলাম, ওহাব আলী সহ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



