খুলনার সড়কে চলছে অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যানের রাজত :, দূর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে!

# ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে শহরে ইচ্ছা-স্বাধীন চলাচল অব্যহত #
# নাগরিক নেতা বলছেন: ট্রাফিক বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও নিস্ক্রীয়তার কারণে এসব ক্ষুদ্র যানের বেপয়োরা চলাচল #
# সংশ্লিষ্টরা বলছেন : খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ক্ষুদ্র যান চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ ব্যস্ততম নগরী খুলনা। খুলনার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিন দিন যানবহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ওই সকল যানবাহনের মধ্যে তিন চাকার সিএনজি, মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা অন্যতম। সম্প্রতি খুলনা-যশোর মহাসড়কে বেপরোয়া হয়ে উঠছে অনুমোদনহীন ব্যাটারী চালিত রিক্সা ভ্যান। খুলনা-যশোর সড়কে অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র এই যানের রাজত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে ক্ষুদ্র এই বাটারি চালিত যানবাহনগুলো ইচ্ছা স্বাধীনভাবে ট্রাফিক নিয়মবর্হিভূত চলাচল শুরু করেছে। একদিকে সড়কে উচ্চগতি, অন্যদিকে ইচ্ছা-স্বাধীন ও খামখেয়ালীপনা চলাচলে স্বাভাবিক চলাচল স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দূর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণে বাড়ছে। এছাড়া শত শত এসব ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যানের চাজিং করতে বিদ্যুাৎ ঘটতিও হচ্ছে। কোন খুঁটি জোড়ে অনুমোদনহীন এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহন গুলো সড়কে অবাদে ছুটে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। সড়কে ছুটে চলা কর্মব্যস্ত সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ সৃষ্ট সমস্যার প্রতিকার চেয়ে খুলনা ট্রাফিক বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা নগরীতে প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। খুলনা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা নিয়মিত কাজ করছে। সড়কে নিয়মবর্হিভূত চলাচলের ব্যাপারে মামলা ও জরিমানাসহ যানবাহন আটকও করা হচ্ছে। খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে ইজিবাইক চালক, ব্যাটারি চালিত ভ্যান-রিক্সা চালকদের ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কেবলমাত্র ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে কেএমপি ইজিবাইক চালকদের প্রশিক্ষন প্রদান শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পরিচ্ছন্ন নগরীর সড়কে যা যা থাকা প্রয়োজন তার অনেক কিছুই ঘাটতি আছে খুলনার সড়কে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলোতে অনেকাংশই পথচারী চলাচলের জন্য নেই রাস্তাপারা চিহ্ন বা জ্রেবাক্রেসিং, বা ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। তাই অনেকটাই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছে নগরবাসি। সেই সাথে বেড়ে চলা যানবহন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, নিয়ন্ত্রণহীন গতি, অদক্ষ গাড়িচালক কর্তৃক যানবহন চলনা আরো ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে খুলনার সড়কে দিনকে দিন শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা-যশোর মহাসড়কে প্রতিদিন শত শত অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান দৃশ্যমান হচ্ছে। বর্তমানে এই অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র যানবাহনগুলো এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে এদের জন্য শহরে স্বাভাবিক চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকন ৩টি চাকার উপর ভিত্তি করে এতোটাই উচ্চগতিতে চলাচল করছে যে, যে কোনো সময় বড়সড় দূর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে অনেক ব্যক্তিবর্গ জানিয়েছেন। তাছাড়া অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র যানবাহনগুলো ট্রাফিক নিয়মবর্হিভুক্ত চলাচল বিশেষ করে, সড়কে মধ্যভাগে উচ্চগতিতে চলাচল, হর্ন দেওয়ার পর অন্য যানবহনকে সাইড না দেওয়াসহ বিবিধ কার্যক্রম অব্যহত রেখে চলাচল করছে। এ অবস্থা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে একদিনে যেমন খুলনা সড়ক ও শহরে বিশৃঙ্গলা দেখা দেবে, অন্যদিকে দূর্ঘটনার প্রবণতা বাড়বে বলে অনেকের আশঙ্কা। খুলনার খুলনা-যশোর সড়কে প্রতিদিন শত শত ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যান যাত্রী নিয়ে ছুটছে। কর্মব্যস্ত মানুষগুলো প্রতিদিনই এই রুটে ধরে কর্মস্থলে পৌছান এবং কর্মশেষে বাড়ীতে ফেরেন। সম্প্রতি খুলনার এই রুটটিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্ষুদ্র ওই ব্যাটারি চালিত যানগুলো। ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে ক্ষুদ্র এই যানবাহনগুলো ইচ্ছা স্বাধীনভাবে ট্রাফিক নিয়মবর্হিভূত চলাচল শুরু করেছে।
মো. ফারুক হোসেন নামের মোটর সাইকেল চালক জানান, বর্তমানে খুলনা-যশোর মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যানের জন্য গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। এটা মোটরসাইকেলের গতি মতোই সমান গতিতে চলাচল করছে। এতে জড়ো চালায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটবে। মাঝ পথ দিয়ে চালায়। হর্ন দিলেও সরে না। তাদের এই খামখেয়ালী চলাফেরার ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগের ব্যবস্থা নেওয়ার উচিৎ।
ইজিবাইক চালক ওলিয়ার জানান, ভাই খুলনার সড়কে এতো রিক্সা বেড়েছে, এখন কেউ দেখে না। আমাদের নিয়ে সব সময় কথা হয়, শহরে ইজিবাইকে ভরে গেছে। রিক্সা চালকদের জন্য ইজিবাইক চালাতে পারছি না। ওরে রাস্তার মাঝ থেকে যায়। এতো জোরে চালায় ব্রেক করলে ছিটে দিয়ে পড়বে। এদের উপরে চালানোর অনুমতি পেল কোথায়? পথযাত্রী নাসরিন জানান, সত্য কথা বলতে কি, ইঞ্জিনের ভ্যানে বসতে ভয় করে। কি জোরে চালায় ভয় লাগে। আগের পায়ের ভ্যান ভালো ছিল। ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালক হারুন মিয়া জানান, ভেতরে এখনো ইজিবাইকে ভরে গেছে। সেই সাথে আমাদের রিক্সা তো আছেই। উপরে চালালে ভাড়া ও যাত্রী ভালো পাওয়া। পায়ের রিক্সা চালাতে কষ্ট হয়, তাই ব্যাটারির রিক্সা চালায়।
এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সাঃ সম্পাদক এড.কুদরত-ই খুদা জানান, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে কেসিসির হোক, পুলিশ প্রশাসনের হোক, নগর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে নামতে পারবেনা এটা প্রথমত। দ্বিতীয়ত, ওই সব চালকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাটারি চালিত যানবাহন কোনো অবস্থাতে চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। কারন, ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যানের চাজিং করতে সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎয়ের ঘটতিও হচ্ছে। কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের অব্যবস্থাপণা, নিস্ক্রীয়তা ও উদাসীনতার কারণে এসব চালকরা বেপয়োরা চলাচল করছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা মহানগর সাঃ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না জানান, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অব্যবস্থাপণা ও নিস্ক্রীয়তার কারণে খুলনা সড়কের শৃঙ্খলা ফিরছে না। তাদের দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণে খুলনায় প্রতিনিয়ন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক দূর্ঘটনায় সাধারন প্রানীর মতো মানুষ মারা যাচ্ছে। কিভাবে অনুমোদনহীন এসব তিন চাকার গাড়ী সড়কে চলছে, তা সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ? নিরাপদ সড়কের পক্ষ থেকে এসব বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার জানান, সড়কে নিয়মবর্হিভূত চলাচলের ব্যাপারে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আটকও অব্যহত আছে। গত তিন মাস ধরে আমরা চালকদের প্রশিক্ষন দিয়েছি। খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে ইজিবাইক চালক, ব্যাটারি চালিত ভ্যান-রিক্সা চালকদের ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কেবলমাত্র ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ক্যাপশন : খুলনার সড়কে অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যানের রাজত্ব, দূর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে…..প্রতিনিধি।



