ডুমুরিয়ার থুকড়া ইউঃ ভূমি অফিসের পিয়ন হেলাল’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

# অফিসটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট # দালালদের প্রধান কর্তা পিয়ন হেলাল উদ্দিন শেখ ও দিপ্তিংশু মন্ডল দিপু # তেরখাদা এলাকার আওয়ামীলীগের দোসর হেলাল উদ্দিন
# হেলালের নিজ নামে স্ত্রীর ও বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ
এম রুহুল আমিন : ডুমুরিয়ার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। দালালদের প্রধান কর্তা হলেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন (এমএলএসএস) হেলাল উদ্দিন শেখ ও দিপ্তিংশু মন্ডল দিপু। অভিযোগ রয়েছে টিটু কম্পিউটারের মালিক দিপ্তিংশু মন্ডল দিপু ইতিপূর্বে ৩-৪ জন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের আইডি ব্যবহার করে সমস্ত কর্ম সম্পাদন করেন এলাকাবাসি জানান। এ ভূমি খাদক চক্র সরকারের স্বার্থ জড়িত ভিপি,খাস খতিয়ানের জমি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছেন ব্যক্তি মালিকানায়। যা নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।কিন্তু জনসাধারন কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা। অন্যদিকে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কাছে সেবাপ্রত্যাশী মানুষ সহযোগিতা চাইলে তারা নির্ধারিত দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিযোগ জানান, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দালালদের ব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভারী করছেন।ইতিমধ্যে থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার,খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর ভূক্তভোগী ব্যক্তিগন ৩টি অভিযোগ দায়ের করেছে।উক্ত অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব,ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,দুর্নীতিদমন কমিশনএ(দুদক)।ভূমি উন্নয়ন কর(খাজনা),নামজারী রিপোট,দাখিলাকাটার অনুমোদন(সম্বনয়),তামিলসহ অন্যান্য জমি সংক্রান্ত সেবা ও সমস্যা সমাধানের জন্য থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন এলাকার জনসাধারণ।টাকা ছাড়া মিলে না কোন সেবা। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কয়েকজন-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন একই এলাকায় অবস্থানের কারণে স্থানীয় দালালদের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হেলাল উদ্দিন ২৬টি মৌজা এলাকায় দালাল চক্র রয়েছে তাদেরকে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। অন্য একাউন্টে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয় । খালিশপুর থানার ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন পিয়ন হেলালের বিরুদ্ধে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন সেই অভিযোগে উল্লেখ করেন ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ রংপুর মৌজার দাখিলা অনুমোদনের জন্য হেলাল উদ্দিন ২হাজার টাকা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন আলাউদ্দিনকে দাখিলার জন্য ঘুরাঘুরি করলে পরবর্তীতে নিজে দাখিলা কর্তন করে নেন। হেলাল উদ্দিনের নিকট টাকা চাইলে তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করলে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর গত ২ ফেব্রুয়ারি-২৫ অভিযোগ দায়ের করেন।যার স্মারক নং-.১৬৫.২৫.৩৮৪,২৭ ফেব্রয়ারী-২৫ ও স্মারক নং-,০০১,২৫-৫০২ (যুক্ত), ১৮/০৫/২৫। অভিযোগের ভিত্তিতে খূলনার ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি অফিস ২২/০৫/২০২৫ ইং তারিখ অভিযোগের শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। ডুমুরিয়া ভুমি অফিসে না যেতে বিবাদী পিয়ন হেলাল তার সিন্ডিকেট সদস্য দিয়ে গত ২১ মে-২৫ আনুঃ রাত ৮ টায় ০১৭৮০-২৩১৩৯২ নম্বর থেকে ও জোড়াগেট এলাকায় হেলাল নিজে সন্ত্রাসী সদস্যদের দিয়ে আমাকে ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। হেলাল উদ্দিনের নামে খালিশপুর থানায় একটি জিডি রয়েছে।জিডি নং -১১১৪,তাং২২-০৫-২৫। তেরখাদা এলাকাবাসী জানান,তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া বলরধনা এলাকার আওয়ামীলীগের দোসর হেলাল উদ্দিন। খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সুজিত অধিকারী কে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তার নিজ এলাকায় সংবর্ধনা দিয়েছেন। অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়,হাইকোর্টের মামলায় নিষেধাজ্ঞাকৃত জমি চকআসানখালী মৌজার ৫১৫ ও ৫১৬ নং খতিয়ানের দাখিলা কেটে দেওয়া বাবদ প্রায় আড়াই মাস পূর্বে চুক্তি করে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয় পিয়ন হেলাল । হেলাল তার গোপনীয় ভাড়াটে দালালকে পঞ্চন্ন লক্ষ টাকা দিয়ে তৎকালীন নায়েবকে দিয়ে খাজনা কেটে দেন এবং বক্রি পয়ষট্টি লক্ষ টাকা হেলাল নিজ পকেটে রাখেন। খাজনা কর্তনের ঘুষের টাকা ধামা চাপা দিতে হেলাল তার নিজ অর্থ খরচে পূর্ববতী নায়েবের বিরুদ্ধে ভাড়াটে লোকদ্বারা লিখিত অভিযোগ দেন।বড় অফিসের কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে তৎকালীন নায়েব কে অন্যত্র বদলি করে দেন। উক্ত টাকা পেয়ে পিয়ন হেলাল ও স্ত্রীর নামে গত ৩ ডিসেম্বর-২০২৪ তারিখে ৫৭৯২/২৪ নং সাব কবলা দলিলে ৯নং রায়েলমহাল মৌজার আর এস ৫১৯৭ নং দাগ থেকে ০.০৩৫০ একর জমি ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে,হেলাল নিজ নামে,স্ত্রী ও বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি।হেলালের অবৈধ টাকার গরমে কোন নায়েব এই অফিসে স্থায়িত্ব করতে পারছেন না। এছাড়া পিয়ন হেলালের মতাবলম্বী কোন নায়েব না হলে, বিভিন্ন কলা-কৌশলে বিপদে ফেলে, সাংবাদিক ও এলাকার কিছু নিজস্ব অর্থলোভী ব্যক্তিদের ভাড়া করে ভয়-ভিতি প্রদান করেন। পিয়ন হেলাল খুলনার প্রতিটি প্রপাটির্জের অনৈতিক কাজগুলো মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সম্পাদন করে থাকেন।তার রয়েছে শক্তিশালী ১টি চক্র। প্রপার্টিজের অনৈতিক কাজ গুলো কোন তহশিলদার সম্পাদন করতে না চাইলে, তাকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রপার্টিজ মালিদের যোগসাজসে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। খুলনা সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বলেন, খুলনার প্রতিটি ভূমি অফিসেই সর্বদা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারণে সেগুলো ধামাচাপা পড়ে যায় তার কোন বিচার হয় না। বড় অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান ভুক্তভোগীরা।



