স্থানীয় সংবাদ

নারিকেলের বিখ্যাত খুলনায় গাছে দেখা মেলেনা নারিকেলের

# সময়ের ব্যবধানে ৩০ টাকার ডাব ১৫০ টাকা #

শেখ ফেরদৌস রহমান: এক সময়ে খুলনা জেলাকে নারিকলে জন্য বিখ্যাত বলা হতো। তবে, সময়ের ব্যবধানে এখন নারিকেল এর দেখা নেই । এমনকি কয়েক বছর আগেও ৩০ টাকা প্রতি পিচ ডাব বিক্রি হলেও এখন বড় সাইজের একটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর শুকনা বড় সাইজের নারিকেল বিক্রি হচ্ছে জোড়া ৩০০ টাকায়। অনেকে কুসংস্কার ছাড়িয়ে দিচ্ছে যে মোবাইল টাউয়ারের কারণে নারিকেলের ফলন কমেছে। তবে, বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে খুলনা কৃষি অধিদপ্তর। তারা বলছেন লবণ, আর মিঠা পানির মিশ্রনে নারিকেল ফলন ভালো হয়। তবে, খুলনা সহ দশ জেলার মিঠা পানির অনেক নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে লবণাক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে মিঠার পানির পরিমাণ অনেক কমেছে যেকারণে নারিকেল গাছে ফলন কমেছে। পাশাপাশি গাছ গুলোতে নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে ও নারিকেল গাছে মাথায় উঠে মাকড় কিটনাশক স্প্রে- না ছিটানোর কারণে ফলন হচ্ছেনা। এ বিষযে কথা হয় মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এর সাথে তিনি বলেন, আমাদের বাগানে প্রায় দুইশ’র মত নারিকেল বাগান ছিল। প্রতি বছর পর্যাপ্ত নারিকেলের ফলন হতো। প্রচুর পরিমাণ ডাব উৎপাদন করে আমরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কিছু বিক্রি করতাম। সময়ের ব্যবধানে এখন দুএকটা নারিকেল গাছে ফলন হলেও ছোট সাইজ আর একা ব্যাকা নারিকেল ফলন হচ্ছে। আর ভিতরে কিছু নারিকেল পচে যাচ্ছে। এ বিষযে কথা হয় ডাব ব্যাপারী মোঃ অসীম গাজীর সাথে তিনি বলেন, আমরা এসব ডাব অধিকাংশ নদীর ওপার আর গাজীর হাট, কোলাপাট-গাতি ডুমুরিয়া বটিয়াঘাট এলাকা থেকে ক্রয় করি। আর পাইকাড়ী যেসব ডাব আনা হয় এসব ডাব বাগেরহাট মোড়লগঞ্জ, পিরোজপুর অঞ্চল দিয়ে নদী পথে বা পরিবহণে আসে। যে কারণে ডাবের দাম বেশি। এছাড়া তিন হাত বদল হয়ে খুচরা পর্যায়ে ডাবের দাম বেমি। পাশাপাশি গরমের সময়ে ডাবের চাহিদা বেশি থাকায় এমন দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় সচেতন নাগরীক আব্দুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, বাড়ীতে পিঠা তৈরি করার জন্য নারিকেল দরকার ছিল । অবশেষে বাজারে নারিকেল দেখা পেলেও এক পিস নারিকেল দাম হাকাচ্ছে ১৭০ টাকা। নারিকেল ফলন কমে যাওয়াতে এমনটি হচ্ছে বলছেন বিক্রেতারা। এ বিষয়ে কথা হয় খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে তিন বলেন, খুলনায় লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে আর মিঠা পানির অভাবে নারিকেল ফলন কমেছে। এছাড়া নিয়মিত নারিকেল গাছের পরিচর্যা না করার কারণে ফলন হচ্ছেনা। মূলতঃ প্রতি বছর দুইবার নারিকেল গাছ ঝুড়ে ফেলবে। পাশাপাশি পোকা-মাকড় নাশক স্প্রে ছিটাতে হবে। এছাড়া গাছের গোড়ায় সার দিতে হবে। তাহলে ফলন হবে নারিকেল গাছে। তবে অধিকাংশ গৃহস্থবাড়ীতে এই নিয়ম মানছেনা। যে কারণে দিন দিন শূণ্যের কোটায় নারিকেলের ফলন। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা পরামর্শ দিব। আশা রাখি নারিকেল ফলন হবে যদি আমাদের দেয়া পরামর্শ তারা নিয়মিত পালন করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button