৪৮১টি পদের মধ্যে ৪১টি শুন্য,আউট সোর্সিং ২৭ ও স্বেচ্ছাসেবক ১০২জন দায়িত্ব পালন করছেন

# যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের চাপ নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি দূর্নীতি দমন কমিশন জেলা সমন্বয় কার্যালয়ের একটি টিম হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বহিরাগত দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা দূর্নীতি তাদের চোখে ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ১৯৯৮ সালে জনবল নিয়ে ১শ’ শয্যা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করা হলেও বর্তমানে এই হাসপাতাল চাপ নিতে বাধ্য হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চাপ। একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর কার্যক্রম ৫শ’ শয্যার অধিক হলেও এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায়ই প্রতিনিয়ত ৬শ’ থেকে ৮ শ’ রোগীর চাপ নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়াত জানান, আড়াইশ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ৪৮১টি পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৪৪০জন। শুন্য রয়েছে ৪১টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেনী কর্মকর্তার ৬৪টি পদ থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৫৭জন অর্থাৎ ৭টি পদ শুন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেনী মঞ্জুরীকৃত ২৫০টি পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ২৪১জন। শুন্য রয়েছেন ৯জন। ৩য় শ্রেনী মঞ্জুরীকৃত ৬০টি পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৪৫জন। শুন্য রয়েছেন ১৫জন ও ৪র্থ শ্রেনীর মঞ্জুরীকৃত ১০৭টি পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৯৮জন। শুন্য রয়েছে ৯জন।
হাসপাতাল সূত্র থেকে জানাগেছে,যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক পদটি শুন্য। ডাক্তার হাসান আব্দুল্লাহ আল মামুন আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান করার পর রাজস্বভূক্ত হওয়ার পর ওই পদটি শুন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া, বর্তমানে সিনিয়ন কনঃ শিশু,সিনিয়র কনঃ সার্জারী ও সিনিয়র কনঃ নাক,কান,গলা পদটি শুন্য। জুনিয়র কনঃ চক্ষু, জুনিয়র কনঃ প্যাথলজী শুন্য। মেডিকেল অফিসার হোমিও পদটি শুন্য, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক ১ম শ্রেনী মঞ্জুরীকৃত ১টি পদ শুন্য অবস্থায় দীর্ঘ দিন রয়েছেন। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, দ্বিতীয় শ্রেনী মিডওয়াইফারী মঞ্জুরীকৃত ৬টি পদের মধ্যে ১টি পদ কর্মরত বাকী ৫টি পদ শুন্য, অনুপেনশনাল থেরাপিষ্ট ১টি মঞ্জুরীকৃত ও সহকারী নার্স মঞ্জুরীকৃত ৬টি পদের মধ্যে ৩টি পদ শুন্য । ৩য় শ্রেনী পদপর্যাদার প্রধান সহকারী ১টি মঞ্জুরীকৃত পদ সম্প্রতি শুন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া,প্রধান সহকারী মঞ্জুরীকৃত ১টি পদ সম্প্রতি শুন্য হয়ে পড়েছে। মেডিকেল টেকঃ ডেন্টাল ১টি,মেডিকেল টেকঃ রেডিওগ্রাফী ১টি,প্যাথলজী ২টি, ফার্মাসিষ্ট ২টি,ফিজোওথেরাপী ১টি,স্টোর কিপার ১টি, অফিস সহকারী ১টি,অফিস সহকারী সিডিইউ ১টি, ওয়ার্ড মাষ্টার ১টি, কার্ডিও গ্রাফার ১টি, কার্ডিওগ্রাফার ১টি সিসিইউ, কম্পাউন্ডার ১টি,ড্রাইভার ১টি ও ৪র্থ শ্রেনীর এম.এল,এস,এস ৩টি,এম,এল,এস,এস সিসিইউ ১টি পদ, কুক/মশালচী ২টি পদ, সুইপার ৩টি পদ শুন্য রয়েছে। জনবল উন্নতি করণের জন্য বিগত কয়েক বছর যাবত এই হাসপাতালে আউট সোর্সিং পদ সৃষ্টি করে জনবল চুক্তিভিক্তিতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমানে ২৭জন আউট সোর্সিং পদে জনবল রাখা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫জন ওয়ার্ড বয়, ২জন নিরাপত্তা প্রহরী,৩জন কুক/মশালচী,২জন ষ্ট্রেচার বেয়ারার , ৫জন সুইপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাগজ কলমে। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন,বর্তমানে জনবল অপ্রতুল থাকায় রোগীর সেবার মান বাড়ানো ও হাসপাতালে যথাযথ সেবা পাওয়ার জন্য তৎকালীন তত্ত্বাবধায়কদের মধ্যেও ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটুর আমলে অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবক নারী ও পুরুষ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এদের অনেকে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে,বর্হিবিভাগ,জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে অধিকাংশদের বিরুদ্ধে রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজনোর অভিযোগ করেন বিভিন্নভাবে টাকা আদায়ের। টাকা না দিলে তাদের সেবা মেলেনা। তারা খোলামেলা ভাবে রোগীদের জিম্মি করে দু’হাতে অর্থ উপার্জনে অতি ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। স্বেচ্ছাসেবক পদে বর্তমানে অত্র হাসপাতালে ১০২জন দায়িত্ব পালনের কথা ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে হাসপাতালে ওয়ার্ড ও বর্হিবিভাগ মিলে যে পরিমানের জনবল দরকার তা না থাকার কারনে স্বেচ্ছাসেবকরা এই সুযোগগুলো কাজে লাগাচ্ছে। সম্প্রতি একজন স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে উদ্যোগ নিলেও তদ্বীরে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন, অত্র হাসপতালে জনবলের কাঠামো বৃদ্ধির জন্য ইতিপূর্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা জানানো হয়েছে। রাজস্বভূক্ত জনবল অপ্রতুল থাকার কারনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।



