নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারসহ মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী

প্রবাহ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি ভাগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কেন্দ্রভিত্তিক, মোবাইল টিম ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ। এছাড়া সাইট ট্র্যাকিং ফোর্সও থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সচিব আরও বলেন, সেই সঙ্গে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মনিটরিংয়ের জন্য সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এটাই আমাদের চূড়ান্ত বৈঠক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিকনির্দেশনা দেবে। ইসি মনিটরিং করবে এখান থেকে।
তিনি আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটির জন্য এনটিএমসির অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল টিম কতগুলো কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করবে তা ঠিক করবে তারা নিজেরা। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আরও নজরদারির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে ১১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ আরও ৩ মাস ১৬ দিন বাড়িয়েছিল অন্তর্র্বতী সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের সারা বাংলাদেশে ১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।’
এ সময়ের মধ্যে কোস্ট গার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে কর্মরত সেনা কর্মকর্তারাও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারা অনুযায়ী সেনা কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয় অন্তর্র্বতী সরকার।
এরপর বেশ কয়েক দফা ৬০ দিন করে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচন শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।



