আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যাচ্ছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন?

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যে রাষ্ট্র সংস্কারের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত আইনি রূপ দেওয়ার কথা ছিল নির্বাচিত সংসদে। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু সংসদের পথচলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে, ৩ মার্চ জুলাই জাতীয় জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইনসচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিটটি করেন। রিটে বলা হয়, অন্তর্র্বতী সরকার কর্তৃক জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোট নির্বাচন অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
জুলাই জাতীয় সনদের অধীনে গণভোট আয়োজন সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩) (৪) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং আরপিওর ১১ অনুচ্ছেদ বিরোধী। উচ্চ আদালতের এই অবস্থান কি তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারের পথে যবনিকা টেনে দেবে? যে সনদককে নতুন বাংলাদেশের ‘সামাজিক চুক্তি’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল, আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে তার ভাগ্য এখন কোন সুতোয় ঝুলছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। বিশেষ করে, যে রাজনৈতিক দলগুলো একসময় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তাদেরই আইনজীবীদের এই আইনি চ্যালেঞ্জ কি কোনো গূঢ় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আইনি লড়াই, রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর গণআকাঙ্ক্ষার এই ত্রিমুখী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জুলাই জাতীয় সনদের ভবিষ্যৎ কি তবে প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে কি না ইতোমধ্যেই ভাবতে বসে গেছেন আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
