চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান : সফল হতেই হবে

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিশেষ অভিযান শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পুলিশের প্রতি তার এ নির্দেশনা কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা- জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী পরিবহণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত বিস্তৃত চাঁদাবাজির জাল সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে প্রত্যক্ষ প্রভাব রাখছে। এ দুর্বৃত্তায়নের লাগাম টানতে হবে যে কোনো উপায়ে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়। প্রায়ই দেখা যায়, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। অবশ্য কোনো ধরনের তদবিরকে গুরুত্ব না দিতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব মূলত পুলিশের। ডিএমপির প্রত্যেক সদস্যকে পেশাদারত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে এ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যদি পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কোনো অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো অপরাধী চক্রের সখ্য থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী হোক বা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়, যা চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে।
