সম্পাদকীয়

নারীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দিন

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা যেন চির অধিকার বঞ্চিত হয়ে আছেন। শুধু তা-ই নয়, কন্যাশিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারীর জন্য সমাজ যেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নিজের ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল, পথে-ঘাটেÍসর্বত্র নারীরা আজ চরমভাবে নিগৃহীত, নির্যাতিত। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের যে মুখস্থ বাক্য আওড়ানো হয়, সেটি উদ্বেগজনকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল কালের কণ্ঠ কয়েকটি প্রতিবেদনে বৈষম্যের শিকার নারীসমাজের নানা দিক তুলে ধরেছে। একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে দাঁড়িয়েও প্রত্যেক নারীকে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়, তা হলো নিরাপত্তা। এইতো কয়েক দিন আগে, চট্টগ্রামের সীতাকু-ে গলায় মারাত্মক জখম নিয়ে এক শিশুর হাঁটার ভিডিও ভাইরাল হলো। ইরা নামের আট বছরের ওই মেয়েটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হন চার সন্তানের এক জননী। এর আগে গত বুধবার কুষ্টিয়ার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। নারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের পাশবিক সহিংসতার ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ধর্ষণ বা দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫১৬ জন, যার মধ্যে শিশু হলো ২৭০। আর ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮৬ জন, যার মধ্যে শিশু রয়েছে ৫৪৩। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, এমন সহিংসতা বন্ধে প্রতিরোধব্যবস্থা সামান্যই। পাশাপাশি দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিচার পাওয়ার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। নানা সময় সরকারের তরফ থেকে নারী অধিকার সুরক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপের কথা বলা হয়। কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবে আলোর মুখ দেখে না।
এ বিষয়ে বিগত অন্তর্র্বতী সরকারের আমলে গঠিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক তাঁর হতাশার কথা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন দেখে প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একটি ধর্মভিত্তিক দলের আপত্তির মুখে সেই প্রতিবেদন বাতিল করা হয়। এমনকি তাঁকেও গালমন্দের শিকার হতে হয়। এই হলো অবস্থা! দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে সমাজে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রথমেই নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এমন দেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’ তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ‘নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ আশা করি, আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা রাখবেন এবং নারীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button