জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হোক

# গণতন্ত্রের পথে অবিচল যাত্রা #
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেশে কার্যত গণতন্ত্র ছিল না। নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। অবশেষে গণ-অভ্যূত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে ক্ষমতা নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন না দিয়ে চলতে থাকে টালবাহানা। নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলো সোচ্চার হতে থাকে। অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। গত বৃহস্পতিবার সেই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে নতুন উদ্যমে শুরু হয় গণতন্ত্রের অবিচল যাত্রা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় অধিবেশন মুলতবি হলে তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি সংসদকক্ষে প্রবেশ করলে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। রাষ্ট্রপতির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশনকক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকারদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা বসে পড়েন। বিক্ষোভের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ প্রদান শুরু করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হব।’ অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই মহান সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আমার রাজনীতি হচ্ছে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার।’ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-আন্দোলনে শহীদ ‘জুলাই যোদ্ধা’সহ দেশের ও বিশ্বের ৩১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে স্পিকার বলেন, ‘২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। সংসদ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।’ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া অধিবেশনে বিশেষ কমিটিসহ পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই মহান সংসদ জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দেশ পরিচালনায় কার্যকর অবদান রাখবে এবং দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করবে।
