মেয়াদ পূরণ করা নিয়ে সরকার অনিশ্চয়তায় ভুগছে: ফরিদা আখতার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বর্তমান সরকারের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের শক্তির পরিচয় নয়, বরং দুর্বলতার লক্ষণ। কারণ তারা নিজেরাই হয়তো অনিশ্চয়তায় ভুগছে যে, এই সরকার পাঁচ বছর টিকবে কিনা। এ নিয়ে তাদের ভেতরে ভয় কাজ করছে। বিশেষ করে অতীতের গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাদের মনে আছে। তরুণরা আবারও আন্দোলনে নামতে পারে-এ আশঙ্কাও তাদের মধ্যে রয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেটি তো সংবিধানের নিয়ম মেনে হয়নি। তাহলে সেই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, সেটি কীভাবে পুরোপুরি সংবিধানসম্মত বলা যায়? এখানে একটা বড় ধরনের অসঙ্গতি আছে। অথচ বর্তমান সরকার দাবি করছে তারা সংবিধান পুরোপুরি মেনে চলছে। সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব সংস্কার করা হয়েছিল, সেগুলো হঠাৎ করে হয়নি। বরং অনেক বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন মহল ও মানুষের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেসব উদ্যোগকে বাতিল বা অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। যা এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী আচরণ। সংসদ নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ এখন কার্যকর আইন প্রণয়ন বা গঠনমূলক আলোচনার জায়গা না হয়ে যেন একটি ‘ডিবেট ক্লাব’-এ পরিণত হয়েছে। যদিও সরকারপক্ষে অনেক সদস্য আছে, তবুও গুণগত আলোচনায় তারা এগিয়ে নয়। বিরোধী দল থেকেও খুব কম সংখ্যক সদস্য সক্রিয়ভাবে বক্তব্য রাখছেন। অধিকাংশ সময় স্থানীয় সমস্যা নিয়েই কথা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করা যায়-এটাই আমাদের সংবিধানের একটি বড় সমস্যা। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বারবার সেটিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা সংবিধানকেই দুর্বল ও হাস্যকর করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, ‘গণসার্বভৌমত্ব’ বা জনগণের সার্বভৌমত্বের কথা এখন আর গুরুত্ব পাচ্ছে না। অথচ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই প্রকৃত ক্ষমতার উৎস। সংসদের সার্বভৌমত্বের কথা বলা হলেও জনগণের স্বার্থ ও মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে।



