স্থানীয় সংবাদ

কয়রায় বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান দুর্ঘটনার আশংকা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ভবনটির বেহাল দশায় রয়েছে। যার ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকরা। এই ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ঐ ভবনে। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও পিলারে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে আসা এবং বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার মত সমস্যা। ফলে শিক্ষার্থীরা সবসময় ভবন ধসের আতঙ্কে থাকে, যা তাদের পড়াশোনা-মনোযোগে বিঘ ঘটায়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি পড়ার সংকা রয়েছে। জানা গেছে উকূলের এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে দীর্ঘবছর এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট এর সহযোগিতায় ২০০০ সালে একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ হয়। কিন্তু আয়লা, ইয়াস, রিমাল, ঘূর্ণিঝড়ে ভেড়িবাঁধ প্লাবিত হয়ে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনটির জানালা, দরজা, ওয়াল কিছুই নাই, আছে শুধু পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ বেহাল দশার খুটি ভাঙ্গা ভবনটি ইতিমধ্যে, বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহতও হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এই বিদ্যালয়ে এক সময় লেখাপড়ার মান অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর স্কুলের মূল ভবন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে কখন ভেঙ্গে এই ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জরুরী একটা ভবন নির্মাণ করা হলে পুনরায় স্কুলের লেখা পড়ার মান ফিরেও আনা সম্ভব। বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবনের দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানালেও কোনো সমাধান মিলছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে পাঠদানে মন বসে না। কারণ পরিবেশের সঙ্গে পাঠদান কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক আছে। টিনসেড এ অল্প জায়গায় অনেক ছাত্রছাত্রী ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশের জন্য একটা বড় ভবন প্রয়োজন। গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার বলেন, শিক্ষার মান উন্নত নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ এই ভবন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। স্কুল এন্ড কলেজের মূল ভবনটি এখন ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সুফল মিলছে না। কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়টির মূল ভবন অনেক জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে চেষ্টা করছি নতুন একটা ভবন বরাদ্দের জন্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গাজী আঃ জব্বার স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে পাঠদানের জন্য প্রথম প্রয়োজন মনোরম পরিবেশে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি, খুব তাড়াতাড়ি এখানে স্কুলের কাজ ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button