জাতীয় সংবাদ

অস্ত্র হাতে হামলার ছবি ভাইরাল, প্রশাসন বলল শনাক্ত করা যায়নি

ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রবাহ রিপোর্ট : চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ছাত্র মুছে গুপ্ত লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এসময় কয়েকজনকে ধারালো কিরিচ, রামদা হাতে দেখা গেছে। তাদেরকে শিবিরের মিছিলের দিকে দৌঁড়ে যেতে দেখা যায়। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রশিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ শিবিরের।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে, যা বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় কয়েকজন তরুণকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র কিরিস ও রামদা হাতে দৌঁড়াতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাদের মুখ আংশিকভাবে কাপড় বা মাস্কে ঢাকা, আর কেউ কেউ হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব ব্যক্তি সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দ্রুত গতিতে ক্যাম্পাসে অপর পক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা যায় তারা সরাসরি সংঘর্ষে অংশ নিতে অস্ত্র হাতে দৌঁড়াচ্ছে। তবে তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তা ভিডিও দেখে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও করিডরে দ্রুত ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করে বলেন, এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
ছাত্রদলের ওপর ছাত্রশিবির হামলা করেছে বলে ছাত্রদল দাবি করেছে। তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানান। তবে আহতদের নামপরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে “ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস” লেখা ছিল। কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া রামদা-কিরিচ ও লাঠিসোঁটা হাতে ব্যক্তিতের শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button