স্থানীয় সংবাদ

অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে পাকা ভবন তুলে মাসিক ভাড়া আদায় : প্রশাসন নিরব

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে সেখানে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণ করে ভাড়া তুলছেন এক স্কুল শিক্ষক। সেখানকার ১৮টি দোকান থেকে বছরে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হলেও উপজেলা প্রশাসন নিরব ভৃমিকা পালণ করায় জনগনের প্রশ্নদেখা দিয়েছ। এছাড়া ওইসব দোকানের ‘পজেসান’ বাবদ দোকা নদারদের কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়ম বর্হিরভুত ভাবে এজারা সম্পতি ব্যাক্তিগত সার্থে ব্যাবহার করছে এই চ্ক্রটি ৷‘প্রগতি শিক্ষা নিকেতন’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে একসনা ইজারা নিয়ে উপজেলার কলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন খোকা এ টাকা আদায় করছেন। নিয়ম অনুযায়ি অর্পিত সম্পত্তি বা ভিপি সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তন করে পাকা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। তবে সরকার যদি কোনো অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে দীর্ঘস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়, সেই বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অর্পিত সম্পত্তিতে কোনো পাকা ভবন নির্মাণ করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি, বাংলা ১৪০৪ সনে প্রগতি শিশু শিক্ষা নিকেতন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে মদিনাবাদ মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমি একসনা ইজারা দেওয়া হয়। প্রথমে প্রতি শতাংশ ২০ টাকা হারে প্রতি বছরে ৬৬০ টাকা ইজারা মূল্য নেওয়া হয়। পরবর্তিতে তা বাড়িয়ে প্রতি শতাংশ ৮০ টাকা হারে ২ হাজার ৬৪০ টাকা করা হয়। যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। তবে পাকা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন অনুমতি নেয়নি ইজারা গ্রহীতা। জানা গেছে, প্রথমে সেখানে টিনের চালা ও কাঠের বেড়ার ঘর তুলে শিশুদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তিতে তা ভেঙে দুই তলা বিশিষ্ট ভবন করা হয়। একই সাথে সড়কের পাশে ১৮টি পাকা দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেয় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালিন প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন। বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সায়রাত সহকারী সুজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, অর্পিত সম্পত্তি কেউ অস্থায়ি ইজারা নিয়ে তা অন্য কারো কাছে ইজারা বা ভাড়া দিতে পারে না। তাছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পাকা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আইন অমান্য করলে ইজারা বাতিল হতে পারে। সেখানকার দোকানদাররা জানিয়েছেন, তারা স্কুল শিক্ষক নুরুল আমীনের কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দোকানভাড়া নিয়েছেন। সরকারি জায়গার উপর দোকান নির্মাণ করা হয়েছে কিনা তা তারা জানেন না। গোলাম রসুল নামে একজন ভাড়াটিয়া বলেন, দুই বছর আগে ৬ লাখ টাকা অগ্রীম দিয়ে দুটি দোকান ভাড়া নিয়েছি। প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দেই। ভাড়ার টাকা নুরুল আমীনের স্ত্রীর কাছে দিতে হয়। একই কথা জানিয়েছেন সেখানকার অন্য ভাড়াটিয়ারা। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়ার টাকা নুরুল আমীনের স্ত্রীর কাছে জমা দেন তারা। এই টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য গত ৫ বছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও অন্যন্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে প্রগতি শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা সুলতানা ভাড়া দেওয়া ও ভাড়া আদায় সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে চাননি। জানতে চাইলে স্কুল শিক্ষক নুরুল আমীন বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক খরচের ব্যাপার আছে। সেসব খরচ ও প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজে ভাড়ার টাকা ব্যয় করা হয় বলে দাবী করেন। তবে অর্পিত সম্পত্তি শ্রেণি পরিবর্তন করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি তিনি। আর্থিক সুবিধার কথা অস্বিকার করে কয়রা উপজেলা বলেন , নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। তবে এমন হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুলনা জেলা ম্যাজেস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত বলেন, এজারা নিয়ে ভবন তুলে আর্থিক সুবিদা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই ৷বিষয়টি আমি নিজে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রাহন করব৷তিনি আরো বলেন এই বিষয়ে আমার উপজেলার কোন কর্মকর্তা যদি যড়িত থাকে সেটা ও আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button