আলোচনার চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান

এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরান
প্রবাহ ডেস্ক : ইরানের সরকারি সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং সম্মিলিতভাবে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরে খারাজমি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সরকারের ভেতরে কোনো বিভেদ নেই এবং উচ্চতর পরিষদে সব বিভাগের প্রতিফলন রয়েছে।
তবে সরকারের অভ্যন্তরে এমন ঐক্যের দাবি করা হলেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদি। তিনি এই আলোচনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কমান্ডার ওয়াহিদির এই কঠোর অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে অধ্যাপক খারাজমি বলেন, ‘যারা পশ্চিমের ওপর নির্ভর করছে এবং ভাবছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও গুরুত্ব ছাড়া আলোচনার মাধ্যমে কোনো ফলাফল আসবে, ওয়াহিদি মূলত তাদের উদ্দেশেই এই মন্তব্য করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
খারাজমির মতে, ইরানে এখন অনেকের মধ্যেই এমন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে যে বর্তমান সংকটের সমাধানের একমাত্র পথ হলো ‘যুদ্ধক্ষেত্র’। আলোচনার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ না করে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করছেন দেশটির প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ।
সূত্র : আল-জাজিরা
ফের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলো ইরান : ইরানের শূরা কাউন্সিলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বোরুজেরদি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান এখনো শক্ত’ এবং ‘আমরা এখনো আমাদের নতুন তাস খেলিনি’।
ইরানি টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব হরমুজ প্রণালির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, আর ইয়েমেনিরা এই প্রণালি অবরোধ করে আমেরিকাকে আরেকটি আঘাত দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে’। এমন এক সময়ে এই বক্তব্য এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করছে।
আলাউদ্দিন বোরুজেরদি আরও বলেন, আলোচনায় তার উপস্থিতি ছিল ‘সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী’।
গত সপ্তাহে ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলি খাজারিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাড়ানোর ‘বিরোধী’।
এর আগে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাসনিম সংবাদ সংস্থা এক ইরানি সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত প্রণালি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ হুমকি তৈরি করার ক্ষেত্রে ইরানের ইচ্ছা ও সক্ষমতা দুটিই রয়েছে।’
বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেন এবং আফ্রিকার তীরে জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।
ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা সামুদ্রিক যানগুলোকে সুয়েজ খালে পৌঁছাতে এই প্রণালি দিয়েই যেতে হয়।
১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩৬ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালিটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সংযোগস্থলে পরিণত হয়। যার মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সমুদ্রপথ নিশ্চিত হয়। সূত্র : বিবিসি বাংলা



