বৃষ্টির তা-বে ধানের ক্ষতি: শঙ্কায় কৃষক, প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপূ

গত কয়েক দিনের টানা এবং অকাল বৃষ্টি দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক অশনিসংকেত নিয়ে এসেছে। মাঠের পর মাঠ সোনালি ধান যখন ঘরে তোলার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কৃষকের সারা বছরের স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান তলিয়ে যাওয়া এবং ঝোড়ো হাওয়ায় ধান গাছ শুয়ে পড়ার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ।কৃষক তার হাড়ভাঙা খাটুনি আর ধারদেনা করে জমিতে ফসল ফলায়। এই ধান বিক্রির টাকা দিয়েই মেটানো হয় পরিবারের সারা বছরের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা আর আগাম ঋণের বোঝা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকের পক্ষেই উৎপাদন খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটতে যেমন শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেশি লাগছে, তেমনি সেই ভেজা ধান শুকানো বা মানসম্মত চাল পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকরা গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।এমন সংকটে কেবল সান্ত¡না নয়, বরং কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। প্রথমত, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরাসরি গিয়ে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে। যেসব এলাকায় ধান কাটার যন্ত্র বা ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ স্বল্পতা রয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রের সরবরাহ বাড়িয়ে দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক চাষিদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বা বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা পরবর্তী ফসলের জন্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। ধান শুকানোর জন্য সরকারি গুদাম বা চাতালগুলোতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।পরিশেষে আমরা মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে অকাল বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। আগাম বন্যার পূর্বাভাস প্রচার এবং দ্রুত ঘরে তোলা যায় এমন জাতের ধান চাষে কৃষকদের আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কৃষকের এই আর্তনাদ আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।
