জাতীয় সংবাদ

যুদ্ধের আগে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল না : মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে ফাঁস

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ব্রিটেন
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বললেন কমলা হ্যারিস

প্রবাহ ডেস্ক : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিসি) সাবেক প্রধান জো কেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একমত ছিল যে তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল না।
মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো কেন্ট গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন। তার মতে, ইসরায়েল এবং একটি বিশেষ বিদেশী শক্তির এজেন্ডার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে বাধ্য করা হয়েছে।
জো কেন্ট তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “এই যুদ্ধের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হলো, যুদ্ধ শুরুর আগে সিআইএ-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত ছিল যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে না। এমনকি গোয়েন্দারা আগে থেকেই সতর্ক করেছিল যে, হামলা হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা তথ্যের সঠিকতা উপেক্ষা করে ইসরায়েলি চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এই অযৌক্তিক যুদ্ধের প্রতিবাদে গত মার্চ মাসে পদত্যাগ করেছিলেন জো কেন্ট। তার পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট লিখেছিলেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের শক্তিশালী লবির চাপে এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য জরুরি ছিল না।২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি’র অজুহাতে ইরানের ওপর এই হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর এখন খোদ মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় এবার যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ব্রিটেন : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে নিজেদের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের পরিকল্পনা চলছে। সেই মিশনের অংশ হিসেবেই পূর্ব প্রস্তুতি স্বরূপ রয়্যাল নেভির এই যুদ্ধজাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক মিশনের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হলে ব্রিটেন যেন তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যেই ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করা হচ্ছে।” এটি মূলত যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া একটি বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে যুদ্ধজাহাজটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে। সেখান থেকেই সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বাধার আশঙ্কার প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে ‘পুরোটা ধাপ্পাবাজি’ বললেন কমলা হ্যারিস : সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ ‘পুরোটা ধাপ্পাবাজি’। নেভাডা ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে এই কড়া মন্তব্য করেন।
কমলা হ্যারিস বলেন, আমেরিকান জনগণ এই যুদ্ধ চায় না। এমনকি কংগ্রেস থেকেও এর কোনো বৈধতা নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছেন, অথচ পরবর্তীতে সেই একই কারণ দেখিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। হ্যারিস এই পুরো বিষয়টিকে ‘বুলশিট’ বা চরম ধাপ্পাবাজি হিসেবে অভিহিত করেন।
হ্যারিস আরও বলেন, “আমি তাকে (ট্রাম্প) কেবল বোকা বলে উড়িয়ে দেব না, তিনি বরং বিপজ্জনক। বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তার মতে, ট্রাম্পের এই নীতির কারণে আমেরিকা তার মিত্রদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভাব ক্ষুণ্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর কমলা হ্যারিস এখন আসন্ন মিড-টার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং যুদ্ধের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য রিপাবলিকানরা ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button