স্থানীয় সংবাদ

আগামী ২১ মে জোড়াগেট কোরবাণী পশুরহাটের উদ্বোধন

# খুলনায় ৪ লাখ কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা বিভাগে এবার কোরবানির পশুর সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি রয়েছে। এদিকে আগামী ২১ মে কেসিসি পরিচালিত জোড়াগেট কোরবাণীর পশুরহাট উদ্বোধন হবে। খুলনা বিভাগে এবার কোরবানির জন্য ১০ লাখ ৭৯ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে ১৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু মজুত রয়েছে। বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি পশু উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। বরাবরের মতো এ বছরও খুলনা নগরীর জোড়াগেট পশুর হাট পরিচালনা করবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। তারা সেভাবেই মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিওএলএস) পরিচালক ড. গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ লাখ ৭৯ হাজারটি। পশু মজুত আছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজারটি। গত বছর এ বিভাগে কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৯ হাজার। তিনি বলেন, এখন স্থানীয় পশু দিয়ে কোরবানির শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। যেহেতু, চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি। তাই দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে অন্য জেলা থেকে পশু আনার দরকার হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় এক লাখ ৩০ হাজার ৪২৭টি, বলদ ৩২ হাজার ২৭টি, বকনা ও গাই ৮২ হাজার ৩০২টি, মহিষ ৪ হাজার ৮৯টি, ছাগল ৮ লাখ ৫১ কাজার ৩৭০টি, ভেড়া ৫১ হাজার ১৭৩টি এবং অন্যান্য ২১৬টি। রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের খামার মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে। আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী গ্রামের খামারি ওলিয়ার রহমান বলেন, এবার গরু লালন পালন করতে তার অনেক খরচ বেশী হয়েছে। কারণ বিল ডাকাতিয়া দীর্ঘ দিন জলাবদ্ধ। যার জন্য গরুর খাবার কিনে আনতে হয়েছে বাইরে থেকে। এতে করে তার খরচ বেশী পড়ে গেছে। সে বিবেচনায় এবার গরুর দাম বাড়তে পারে। তার একটি ষাঁড় আছে। যার মাংস হবে পাঁচ মণের ওপরে। দাম চাইছেন ১লাখ ৮০ হাজার টাকা। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক দিদারুল আলম বলেন, প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছি। পশুগুলোকে সুস্থ এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছি। লিয়াকত হোসেন নামে আরেক কৃষক তার পারিবারিক পশু পালনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন এবং পরে টিপনা গ্রামে তার ভাইদের সঙ্গে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পশু পালন শুরু করেন। তাদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে। খুলনা বিভাগের বেশকিছু জেলায় ইতিমধ্যে গবাদি পশুর হাট বসতে শুরু করেছে, যদিও ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, আরও একসপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে খুলনার জোড়াগেটে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে চার দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কোনও ঠিকাদার অংশ নেয়নি। গত বছর কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করে কেসিসি ২ কোটি ৭ লাখ টাকা রাজস্ব (হাসিল) আয় করেছিল। কেসিসির বাজার শাখা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, কোরবানির পশুর হাটের চার দফা দরপত্র আহবান করে কোন সাড়া না পেয়ে কেসিসি নিজস্ব তত্বাবধানে এবারও হাট পরিচালনা করবে। আগামী ২১ মে বেলা ১১টায় জোড়াগেট কোরবাণী পশুরহাট উদ্বোধন করবেন প্রশাসক নজরুল ইসলম মঞ্জু। গত বছরে হাসিলের পরিমাণ ছিল ৪ শতাংশ। এবারও হাসিলের পরিমাণ একই থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, হাটে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। পশু ও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে মেডিক্যাল টিম। হাটে এসে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর টহল থাকবে। তাছাড়া নকল টাকা প্রতিরোধে থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ। একসপ্তাহ আগে থেকে হাট শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে হাট পরিচালনা করার জন্য কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহ্বায়ক ও বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button