সম্পাদকীয়

বেসরকারি খাত রক্ষা করতে হবে

# সামগ্রিকভাবেই অর্থনীতির বিপন্ন দশা #

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। সংসার চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও স্থির আয়ের মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। পুষ্টির চাহিদা পূরণ দূরে থাক, অনেকে দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারছে না। মাছ-মাংস তো নয়ই, প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, শাক-সবজি কিনতেও অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে, তত বাড়ছে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। তারা ঠিকমতো চিকিৎসাও নিতে পারছে না। কারণ চিকিৎসার ব্যয়ও প্রতিযোগিতা করে বাড়ছে। সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে পণ্যমূল্য। বাজারে কোনো কোনো সবজির দাম দেড় শ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের পুষ্টির প্রধান উৎস ডিমের দাম ১১০/১১৫ থেকে বেড়ে ১৪০/১৪৫ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে রান্নায় ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩৫৬ টাকা। দুই দফা বাড়ানোর পর সেই সিলিন্ডারের দাম হয়েছে এক হাজার ৯৪০ টাকা। কিন্তু বাজারে ওই দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। অর্থাৎ যে পরিবারে মাসে একটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, গ্যাসেই তাদের খরচ বেড়েছে প্রায় হাজার টাকা। অন্যান্য জিনিসের বর্ধিত দাম তো আছেই। কিন্তু বেতন বা আয় বেড়েছে কি? বাড়েনি। তাহলে ওই পরিবারটি চলে কী করে? শুধু পরিবার নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিরই অত্যন্ত বিপন্ন দশা। চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাচ্ছে। আবার ঋণের সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ায় ব্যাংকঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গেছে। এই হারে সুদ দিয়ে লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এসব কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। অন্যদিকে রয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি। গ্যাসের অভাবে কোনো কোনো এলাকায় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে গেছে। এতেও লাভজনকভাবে শিল্প-কারখানা চালানো যাচ্ছে না। আছে নিরাপত্তার অভাব। চাঁদাবাজি অনেকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধকল সামলে ওঠার আগেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চাইছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আর স্থির আয়ের মানুষের জন্য সেটি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো। দেশের অর্থনীতির প্রাণ বলা হয় বেসরকারি খাতকে। দেশের জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭৮ থেকে ৮৬ শতাংশ। আর কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। সঠিক নীতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই খাতকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ধস নেমে আসুক, এটিও কারো কাম্য নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button