দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে ‘খুলনাঞ্চল’

# অর্থবছর ২০২৫-২০২৬’র বোরো আবাদ #
# অঞ্চলে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২,৬৪,৭১৯, অগ্রগতি ২,৬৬,৯৯৩, কর্তনের হার ৮১%
# উৎপাদনের সম্ভবনা ১৮,১৫,৪২৪ মেট্রিক টন, বিক্রির সম্ভাবনা ৬৫৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৮২ হাজার টাকা #
# অতিবৃষ্টিতে অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির পরিমান প্রায় ১ কোটি টাকা #
মো. আশিকুর রহমান : দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনাঞ্চল। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২০২৬’ এ খুলনাঞ্চলে বোরো (হাইব্রীড, উফশী ও স্থানীয়) জাতের ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমি। খুলনাঞ্চলের আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমি। আবাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ২,২৭৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের সম্ভব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে খুলনাঞ্চলে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৪২৪ মেট্রিক টন ধান। যার বিপরীতে অঞ্চলে বিক্রির সম্ভবণা ধরা হয়েছে ৬৫৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৮২ হাজার টাকা (সরকার ঘোষিত প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা)। বর্তমানে খুলনাঞ্চলে বোরো ধানের কর্তনের গড় ৮১%। খুলনাঞ্চলে শেষ সময়ে ঘরে পরিশ্রমের ফসল তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা, চলছে বোরো ধান কর্তনের মহা কর্মযজ্ঞ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু দিন আগে অতিবৃষ্টির কারণে খুলনাঞ্চলের বাগেরহাট জেলায় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ইতোমধ্যে খুলনাঞ্চলে ৮১% ধান কর্তন শেষ হয়েছে। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে আশা করা যাচ্ছে বড় ধরনের ভারীবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি দেখা না দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে। একই সাথে এই অঞ্চলের কৃষকের উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনাঞ্চলের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৪ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে খুলনাঞ্চলে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৪২৪ মেট্রিক টন ধান। যার মধ্যে খুলনা জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন, বাগেরহাট জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ২৮৫ হাজার ৩৫৮ টাকা, সাতক্ষীরা জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ১২ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন ও নড়াইল জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩১২ মেট্রিক টন ধান। সম্ভাব্য উৎপাদনের বিপরীতে অঞ্চলে বিক্রির সম্ভবনা ধরা হয়েছে ৬৫৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। যার মধ্যে খুলনা জেলায় ১৭০১ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাগেরহাট জেলায় ১৭৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা জেলায় ১৮৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার টাকা ও নড়াইল জেলায় ১২৪৩ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। খুলনাঞ্চলের আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমি। যার মধ্যে খুলনা জেলায় ৬৫,৭৭৮ হেক্টর, বাগেরহাট জেলায় ৬৮,১৭১ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ৮২,৭৩৫ হেক্টর ও নড়াইল জেলাতে ৫০,৩০৯ হেক্টর জমি। আবাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ২,২৭৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবাদ শেষে খুলনাঞ্চল জুড়ে এখন কৃষকেরা ব্যস্ত বোরো ধান কর্তন নিয়ে। সর্বশেষ তথ্যনুসারে খুলনাঞ্চলের কর্তনের গড় ৮১%। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা ও বজ্র মেঘের সৃষ্টি হওয়ার দরুন উপকূলীয় এলাকা তথা দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারী, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যহত ছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যনুসারে, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল খুলনা জেলায় ৪১.৪ মিলিমিটার, বাগেরহাটে ৭২.৬ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ২৪ মিলিমিটার ও নড়াইল জেলায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছর ২০২৫-২০২৬’র মাঠে দন্ডায়মান ফসলী জমির মধ্যে খুলনাঞ্চলের ৩ জেলা (খুলনা, সাতক্ষীরা ও নড়াইল) অতিবৃষ্টির দরুন বোরো আবাদের ক্ষতির হার শূন্য থাকলেও বাগেরহাট জেলায় মোট প্রায় ৬৮ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উৎপাদন ব্যাহত হয় ৪৮৮ মেট্রিক টন ধান, ক্ষতির পরিমান ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা ১৬ হাজার ৩’শ জন কৃষক।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা ৩নং রায়েন্দা ইউনিউনের ৬নং ওয়ার্ডের (কদমতলার) ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মো. সরোয়ার আকন জানান, আমি ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করি। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে ২ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখনো ৪ বিঘা জমিতে ফসল রয়েছে। থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, কৃষান পাচ্ছি না। ভারি দুচিন্তায় পড়েছি, ভারী বৃষ্টিপাত হলে আবারও ক্ষতিগ্রস্থ হবো। ঘরে দ্রুত ফসল তুলতে উপজেলায় এসেছি পরামর্শ ও সহযোগীতা নিতে।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ৫নং সালামবাদ ইউনিয়নের ধূসহাটি ব্লকের জুকারচর গ্রামের কৃষক তৈয়েবুর রহমান জানান, ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ধান কাটা প্রায় শেষে দিকে। বাকি ৫ বিঘার মতো ধান কাটতে বাকি আছে। প্রতিদিনই আকাশে মেঘ করছে, দুচিন্তায় থাকতে হচ্ছে, তখন বুঝি বৃষ্টি নামে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ধান কেটে ঘরে উঠাতে পারলে দুঃচিন্তা কমে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা লায়েক হাওলাদার জানান, আমার হোগলাপাশা ইউনিয়নে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ হেক্টর, সেখানে অর্জিত হয়েছে ৭৭০ হেক্টর। অতিবৃষ্টির কারণে ৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৬ লাখ টাকার মতো এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৪০-৪৫ জনের মতো। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের তালিকা প্রস্তুত করছি, সরকার বাজেট দিলে তাদের তা প্রদান করা হবে। যদি অনুদান না আসে তবে পরিবর্তিতে তাদের প্রনোদনা হিসাবে প্রনোদনা প্রদান করা হবে। যেহেতু ধান কর্তন চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কৃষকেরা ধান কর্তন করে ঘরে তুলতে পারে, সে ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কিশোর আহমেদ জানান, আমার উপজেলার চলতি অর্থবছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪,৮৮৫ হেক্টর। অগ্রগতি হয়েছে ৪৮৭৬ হেক্টর। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৯২% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি ফসল ঘরে তুলতে উপজেলার পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, সার্বক্ষনিক খোজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন জানান, আমার উপজেলার চলতি অর্থবছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩,২৮৫ হেক্টর। অগ্রগতি হয়েছে ২৩,৩১০ হেক্টর। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৮২% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, কৃষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘরে ফসল তুলতে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন জানান, আমার উপজেলার চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩,২৮৫ হেক্টর। অগ্রগতি হয়েছে ২৩,৩১০ হেক্টর। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৮২% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, কৃষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘরে ফসল তুলতে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগী , আমার উপজেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭,৭৪৫ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৭,৭৫৭ হক্টর। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৮৫% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে ১০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান ১১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ৭২ জনের মতো। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের তালিকা প্রস্তুত করছি, সরকার বাজেট দিলে তাদের তা প্রদান করা হবে। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কৃষকেরা ধান কর্তন করে ঘরে তুলতে পারে, সে ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯,০০০ হাজার হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৮,৯৮৫ হেক্টর। ধারনা করা হচ্ছে ৩০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সেনুসারে ধারনা করা হচ্ছে আর্থিক ক্ষতির পরিমান ২৪ লাখ টাকা হতে পারে এবং ২৫৫-২৬০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যদি বাজেট দেয় তা তাদের প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৭০% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ফসল ঘরে তুলতে আমরা কৃষকদের পরামর্শসহ সর্বাত্বক সহযোগীতা করছি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবব্রত সরকার জানান, আমার উপজেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪,৩০০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৬,৫৩৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৫০% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া অতিবৃষ্টিপাতের কারণে অতিবৃষ্টির কারণে ২৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ জনের মতো। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের তালিকা প্রস্তুত করছি, সরকার বাজেট দিলে তাদের তা প্রদান করা হবে। যেহেতু ধান কর্তন চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কৃষকেরা ধান কর্তন করে ঘরে তুলতে পারে, সে ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাট জেলার উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন জানান, ৬৭,৬২২ হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৬৮,১৭১ হেক্টর। কর্তনের হার ৮০%। অতিবৃষ্টির কারণে জেলায় প্রায় ৬৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হয়েছে ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককের সংখ্যা ১২৩০ জন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকার তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনুদান দিলে আমরা স্ব-স্ব উপজেলার মধ্যে তাদের মাঝে প্রদান করবো। এছাড়াও আউশ ও পাট চাষের মৌসুমে আমরা তাদের কোনো সুবিধা দিতে পারি কিনা তা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি ধান কৃষকের ঘরে তুলতে স্ব স্ব উপজেলা থেকে পরামর্শ ও সর্বাত্ক সহযোগীতা করা হচ্ছে।
বোরো আবাদ ও উৎপাদনের সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খুলনাঞ্চলে চলতি অর্থবছরে বোরো আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২,২৭৪ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিরুপন করা হয়েছে, বড় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা না দিলে সেটি বাস্তকে রুপ নিলে এই অঞ্চলের কৃষকের উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


