জাতীয় সংবাদ

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন দুই ঘাঁটি : যেভাবে সন্ধান পায় রাখাল

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমির বেদুইন শিবিরের বাসিন্দাদের কাছে ট্রাকে যাতায়াত অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য। গত ৩ মার্চ দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় এক রাখাল পিকআপ ভ্যানে চড়ে নিকটবর্তী শহর আল-নুখাইবের দিকে যাচ্ছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর যখন ফিরে আসেন, তখন তার গাড়িটি আগুনে জ্বলছিল এবং গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল। বেদুইন শিবিরের তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি হেলিকপ্টার ওই পিকআপ ভ্যানটিকে তাড়া করছিল এবং অনবরত গুলি ছুড়ছিল। শেষ পর্যন্ত বালুর মধ্যে ঝটকা দিয়ে ট্রাকটি থেমে যায়। মর্মান্তিক এই হামলার ঘটনাটি এর আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির আল-শাম্মারি জানান, ২৯ বছর বয়সী তার চাচাতো ভাই আওয়াদ আল-শাম্মারি মুদি মালামাল কিনতে বের হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। বাড়ি ফেরার বদলে এই রাখাল দুর্ঘটনাবশত ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের এক কঠোর সুরক্ষিত সামরিক গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে যান। পরিবারের ধারণা, এই সত্যটি জানার কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। রাখাল আল-শাম্মারির এই আবিষ্কারের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত উন্মোচিত হয়, শত্রু রাষ্ট্র ইসরায়েল কীভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের মাটিতে দুটি গোপন ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছিল। যেভাবে উন্মোচিত হলো গোপন ঘাঁটি ঃ দুর্ভাগ্যজনক সেই যাত্রা শুরু এবং নৃশংস পরিণতির মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে রাখাল আল-শাম্মারি ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি সেখানে যা দেখেছিলেন তা ইরাকি কর্মকর্তাদের জানান। তিনি দেখেছিলেন একটি ল্যান্ডিং স্ট্রিপের (হেলিপ্যাড বা রানওয়ে) চারপাশে সেনা, হেলিকপ্টার এবং তাঁবু। সিনিয়র ইরাকি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, বাগদাদের আঞ্চলিক অংশীদার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করতেই ইসরায়েল সেখানে এই ঘাঁটি পরিচালনা করছিল। ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির কথা এর আগে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ প্রকাশ করেছিল। তবে ইরাকি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে আরও একটি অপ্রকাশিত দ্বিতীয় ঘাঁটি রয়েছে। ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির সন্ধান পাওয়া রাখাল আওয়াদ আল-শাম্মারির অগ্নিদগ্ধ পিকআপ ভ্যান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, আল-শাম্মারি যে ঘাঁটিটি আবিষ্কার করেছিলেন তা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধের আগেই তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৪ সালের শেষের দিকেই এই অস্থায়ী ঘাঁটিটি তৈরি শুরু করেছিল। এই গোপন ক্যাম্প বা রাখাল আল-শাম্মারি হত্যাকা-ের বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ। আওয়াদ আল-শাম্মারি হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। ইসরায়েলি ঘাঁটির বিষয়ে কথা বলা বেশিরভাগ কর্মকর্তাও অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নিরাপত্তা ইস্যুতে নিজেদের নাম গোপন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য ইঙ্গিত করে, অন্তত একটি ঘাঁটি, যেটি রাখাল আল-শাম্মারি আবিষ্কার করেছিলেন, তা ২০২৫ সালের জুন বা তারও আগে থেকে ওয়াশিংটনের জানা ছিল। এর অর্থ দাঁড়ায়, বাগদাদের অন্যতম প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের মাটিতে তাদের শত্রু বাহিনীর উপস্থিতির কথা ইরাকি সরকারের কাছে গোপন রেখেছিল। গোপন সংসদীয় ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কাদু বলেন, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, এর সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং ইরাকি জনগণের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকের মাটিতে নিরাপদে ও গোপনে কার্যক্রম চালানো যাবে- ইসরায়েলের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ইরাকি নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টিও হিসেবে ছিল। দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছরের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাতÑউভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন বিমানগুলোকে সুরক্ষা দিতে ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল। এর ফলে শত্রুভাবাপন্ন দেশের যেকোনো তৎপরতা শনাক্ত করার জন্য বাগদাদ সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই ঘাঁটির তথ্য ফাঁস হওয়া ইরাকের জন্য বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। যেমন, এক রাখাল উন্মোচন করার আগ পর্যন্ত ইরাকি বাহিনী কি সত্যিই এই বিদেশি উপস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানত না? নাকি তারা জানত, কিন্তু এড়িয়ে গেছে? উভয় সম্ভাবনাই ফুটিয়ে তোলে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার টানাপোড়েনে দীর্ঘকাল ধরে আটকে থাকা ইরাক এখনও নিজের ভূখ-ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে কতটা অক্ষম। আইনপ্রণেতা আল-কাদু বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে ইরাকের নেতাদের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক। ইরাকি সামরিক বাহিনীর ওয়েস্টার্ন ইউফ্রেটিস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আল-হামদানি জানান, রাখালের এই আবিষ্কারের এক মাসেরও বেশি সময় আগে থেকেই সেনাবাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির সন্দেহ করছিল। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। ইরাক সরকারের জন্য ইসরায়েলি ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে তারা এখনও এর সত্যতা স্বীকার করেনি। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরাকের কোনো কুটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং সাধারণ জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই গণ্য করে। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, কোনো ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ইরাকের কাছে কোনো তথ্য নেই। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর ইরাকে বাড়তে থাকা ক্ষোভ দেশটিতে ইরানি প্রভাব কমানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব ঃ দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, রাখাল আল-শাম্মারি যে ঘাঁটিটি উন্মোচন করেছিলেন, সেটি ইসরায়েল বিমান সহায়তা, জ্বালানি রিফুয়েলিং এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহার করত। ইরানে পৌঁছানোর জন্য ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর উড্ডয়ন দূরত্ব কমিয়ে আনতেই এই ঘাঁটিটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি মূলত একটি অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে সামরিক কার্যকলাপে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যায়; যেমনটি করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধে। ম্যাপে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি ঃ দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধে এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। গত বছরের যুদ্ধের পর এক বক্তৃতায় ইসরায়েলের সামরিক চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছিলেন, ইসরায়েলি অভিযানের সাফল্য সম্ভব হয়েছিল অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বিমান বাহিনী এবং গ্রাউন্ড কমান্ডো বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয় ও ছদ্মবেশ ধারণের দক্ষতার কারণে। মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরাকে ইসরায়েলি অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এই প্রশ্নগুলো ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। তবে ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগন কর্মকর্তা এবং আমেরিকান কূটনীতিকরা বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাতে সেন্ট্রাল কমান্ড পশ্চিম ইরাকে ইসরায়েলি উপস্থিতির কথা জানত নাÑএমনটা ভাবা অসম্ভব। একটি বিপজ্জনক রহস্য ঃ আঞ্চলিক কমান্ডার জেনারেল আল-হামদানির মতে, মরুভূমিতে অস্বাভাবিক সামরিক কর্মকা-ের কথা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ডের কাছে রিপোর্ট করে আসছিল বেদুইন সম্প্রদায়গুলো। তিনি জানান, সেনাবাহিনী সরাসরি সেখানে না গিয়ে দূর থেকে নজরদারির করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ কমান্ডাররা সন্দেহ করেছিলেন এটি ইসরায়েলি বাহিনী হতে পারে। তারা এ বিষয়ে তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য চেয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি। কারবালা অপারেশনস কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ফাহিম আল-গুরায়তি এবং রাখালের পরিবারের মতে, ঘটনার দিন রাখাল আল-শাম্মারি বিদেশি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ফোন করেছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাবাহিনী এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পরিবার দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর বেদুইন বাসিন্দাদের সন্ধান পায়, যারা এই হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই জানা যায় আওয়াদ আল-শাম্মারির ভাগ্যে কী ঘটেছিল। চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল আওয়াদের গাড়ির মতো একটি পোড়া পিকআপ ভ্যান সেখানে পড়ে আছে, কিন্তু ভয়ে কেউ সেখানে যাওয়ার সাহস পায়নি। আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন গাড়ি এবং তার শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে থাকতে দেখি। তার পরিবার আওয়াদের রক্তাক্ত মরদেহের ছবি দেখিয়েছে, যার মাথা এবং আঙুলগুলো কালো হয়ে গিয়েছিল। পুড়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যানের পাশেই একটি সাধারণ ধূসর সমাধিপাথরের নিচে তাকে দাফন করা হয়। জেনারেল আল-গুরায়তি এবং জেনারেল আল-হামদানি জানান, রাখালের রিপোর্টের পরদিনই ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ড একটি অনুসন্ধানকারী দল পাঠায়। ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, সেনারা যখন ওই এলাকার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন তারা তীব্র হামলার মুখে পড়ে। এতে একজন ইরাকি সেনা নিহত এবং দুজন আহত হন, পাশাপাশি পিছু হটার আগে তাদের দুটি গাড়ি বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। বাগদাদের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তখন আসলে কী ঘটছে তা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। দুই কর্মকর্তা জানান, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় তাদের অনুসন্ধান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রকাশ্যে ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড ঘোষণা করে ‘বিদেশি’ বাহিনী তাদের সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তবে গোপনে, ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল-আমির ইয়ারাল্লাহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্তা ব্যক্তিদের ফোন করেছিলেন। জেনারেল আল-হামদানি বলেন, তারা নিশ্চিত করেছে, এই বাহিনী আমেরিকান কোনো দল নয়। তখনই আমরা নিশ্চিত হই, এটি ইসরায়েলি বাহিনী ছিল। ইরাকি সৈন্যদের ওপর হামলার চার দিন পর, ৮ মার্চ ইরাকি পার্লামেন্ট সামরিক নেতাদের একটি গোপন ব্রিফিং দিতে বাধ্য করে। সেখানে উপস্থিত আইনপ্রণেতারা জানান, তারা বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারবেন না। তবে তাদের একজন, হাসান ফাদাম দ্য টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল ইরাকের ভেতরে আরও অন্তত একটি ঘাঁটি স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, আল-নুখাইবের ঘাঁটিটি কেবল সামনে এসেছে, এ ছাড়া আরও গোপন ঘাঁটি রয়েছে। অন্য এক ইরাকি কর্মকর্তাও একটি দ্বিতীয় ঘাঁটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, তবে সঠিক অবস্থান না জানিয়ে শুধু বলেছেন এটিও পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত। সাবেক ও বর্তমান সিনিয়র ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল অনুযায়ী ইরাকের মাটিতে যেকোনো কার্যক্রমের বিষয়ে ওয়াশিংটন বাগদাদকে জানাতে বাধ্য। এর অর্থ দাঁড়ায়, ওয়াশিংটন হয় ইসরায়েলি কর্মকা-ের কথা গোপন করেছে, অথবা ইরাকের শীর্ষ কমান্ডকে জানিয়েছিল যারা এটি গোপন রেখেছিল। তবে কর্মকর্তারা মনে করেন, রাখালের মাধ্যমে এটি ফাঁস হওয়ার আগে ইরাকি নেতারা এটি ইসরায়েলি ঘাঁটি ছিল তা জানতেন না, বরং তারা ধরে নিয়েছিলেন যে এগুলো আমেরিকান সাইট। ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষা ঃ ২০০৩ সালে মার্কিন আক্রমণের পর থেকেই বাগদাদ তার সাবেক দখলদার ওয়াশিংটন এবং শক্তিশালী প্রতিবেশী ইরানের মধ্যে এক কঠিন রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রভাব খর্ব করতে ইরাকের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন চায় ইরাক যেন ইরানের অনুসারী মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করে এবং সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীতে তাদের ভূমিকা নিষিদ্ধ করে। বহু বছর ধরে ইরাকি নেতারা এটি করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক ছিলেন, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। মিডল ইস্ট ভিত্তিক রিস্ক অ্যাডভাইজরি ফার্ম ‘জিওপল ল্যাবস’ এর প্রতিষ্ঠাতা রামজি মারদিনি বলেন, ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির এই তথ্য প্রকাশ ইতিমধ্যেই নড়বড়ে হওয়া ভারসাম্যকে আরও বড় ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততাকে এখন ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলানো হিসেবে দেখা হতে পারে। যদি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হয়, তবে এটি ইরাকে ইরানের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের একটি অজুহাত তৈরি করে দিতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি ইরান-পন্থি মিলিশিয়াদের অস্ত্র সমর্পণ না করার একটি বড় অজুহাতও এনে দেবে। বর্তমানে আল-নুখাইবের সেই ইসরায়েলি ঘাঁটিটি আর সচল নেই। তবে অপর ইসরায়েলি ঘাঁটিটির বর্তমান অবস্থান এখনও অজানা। নিহত রাখাল আল-শাম্মারির পরিবার বলছে, এই হত্যাকা-কে পুরোপুরি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তার চাচাতো ভাই আমির বলেন, তারা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে যেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হয় এবং কেন এটি ঘটল তা বের করা হয় এবং বিচার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button