জাতীয় সংবাদ

ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-, জোরালো হচ্ছে দাবি

দাবি উঠছে প্রকাশ্যে ফাঁসিরও

প্রবাহ রিপোর্ট : সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-ের দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বিচারহীনতার সংস্কৃতি রোধে দ্রুততম বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। এই দাবির পেছনের মূল কারণগুলো হচ্ছে- নৃশংসতা বৃদ্ধি : বিশেষ করে শিশুদের ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দেরিতে বিচার: বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে অনেকেই মনে করেন।
জনসম্মুখে ফাঁসি : অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন দোষীদের জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- কার্যকরের দাবি তুলছে।
সামাজিক ও আইনি প্রতিক্রিয়া জনমত ও প্রতিবাদ: ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।ইসলামী সংগঠনগুলোর অবস্থান: বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও আলেম সমাজ অপরাধ দমনে কোরআনের বিধান অনুযায়ী প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- ও কঠোর আইনের দাবি জানাচ্ছেন।আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার বিতর্ক: কঠোর শাস্তি অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করলেও, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন মানবাধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। ধর্ষণ রোধে বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি এবং অপরাধীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ- নিশ্চিত করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী বক্তা এবং কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে কোরআনের নির্দেশনার আলোকে বিচারব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
আমির হামজা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত আইনে রামিসা, আছিয়া বা তানিয়ার মতো ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রকৃত বিচার সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এই দেশে যদি সত্যিই ধর্ষণের বিচার করতে হয়, তাহলে কোরআনের সুরা আন-নূরের আয়াতের আলোকে বিচার করতে হবে। এই আয়াতটা সংসদে কার্যকর করে দিন। তাহলে বাংলাদেশের যুবকদের ধর্ষণ তো দূরের কথা, স্বপ্নদোষও বন্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু সংসদে বক্তব্য, বিবৃতি বা মানববন্ধন করে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। “ধর্ষণ জীবনে বন্ধ হবে না, যদি শরিয়তের আইন বাংলাদেশে কায়েম না করা যায়।”
তিনি দাবি করেন, “মানুষ নামের এই জানোয়ারগুলোর বিচার শুধু জেল দিয়ে, জরিমানা দিয়ে হবে না। এদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দিতে হবে।”
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে মৃত্যুদ-, আবার কেউ শরিয়াভিত্তিক বিচারব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
রামিসা হত্যাকা-ের তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষও।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button