স্থানীয় সংবাদ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করতে হবে : অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ

# খুলনায় জামায়াতের ভোট কেন্দ্র পরিচালক সমাবেশে #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেছেন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের টেকসই উত্তরণের জন্য জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সময়ের দাবি অনুযায়ী নতুন বার্তা ও ইতিবাচক কর্মধারা নিয়ে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে হবে। সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, দুঃখ-দুর্দশা ও প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করেই আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, উক্ত কর্মকর্তা অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্পর্শকাতর ও দায়িত্বশীল স্থানে নিয়োগ দেওয়া হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আশঙ্কা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হবে। এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তিনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ভোট কেন্দ্র পরিচালক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম। মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েব আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, মাওলানা মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক, মুহা. ইকবল হোসেন, ইঞ্চিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, হরিণটানা থানা আমীর মুহা. সেলিম বাহার, লবণচরা থানা আমীর মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি আরও বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বদলের কোনো প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি হতে হবে সমাজে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রকৃত কল্যাণ প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সূচনা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং তা বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে ইনশাআল্লাহ। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)সহ নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেছে। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করার দাবি জানানোর পাশাপাশি বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং গণতন্ত্র সুসংহত করতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ ধরনের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে কমিশনের নিজস্ব আপত্তি ও সাংবিধানিক অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করার আহবান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button