সম্পাদকীয়

চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে হবে

# হাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না #

দেশে হামের সংক্রমণ কিছুতেই যেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যানও শুধুই দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে এক হাজার ৮৬ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো আট শিশুর। এর ফলে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৮৩ শিশুর। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২। ধারণা করা হয়, মৃত্যু ও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ সারা দেশে আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের একটি বড় অংশই হাসপাতাল বা এই পরিসংখ্যানের আওতায় আসে না। হামে এভাবে শিশুমৃত্যুর জন্য বিশেষজ্ঞরা মূলত দায়ী করছেন টিকা কার্যক্রম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে। ইউনিসেফ বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ার কারণেও পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সময়মতো টিকা না পাওয়া, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার আওতায় না আসা এবং অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে না পারার কারণেই পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশ পরবর্তী জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে ৯৯ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এসব সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য নয় এবং সারা দেশের বেশির ভাগ অভিভাবকের পক্ষে বড় শহরের বড় হাসপাতালে এনে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সংক্রমণ রোধে নাগরিকদের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ঈদ উপলক্ষে কয়েক কোটি মানুষ যেভাবে গাদাগাদি করে যাতায়াত করেছে, তাতে সংক্রমণ আবারও বেড়ে যেতে পারে। কারণ হামের জীবাণু হাঁচি-কাশি থেকেও সংক্রমিত হয়। এ সময় আক্রান্ত শিশুদের থেকে সুস্থ শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আমরা মনে করি, সংক্রমণ রোধে এবং রোগ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্তত উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আক্রান্তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button