শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৭ লাখ টাকা, আছে ডলার ও পাউন্ড

# ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তির মধ্যেই মাত্র ৫ দিনের মাথায় সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সিলেটের সদ্য বদলীর আদেশ হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত গণনায় মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। গণনা তদারকি করেন আরও ৩ জন। গণনায় সহযোগীতা করেন দরগাহ কাসিমুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও। গণনা শেষে গত ৫ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত তোলা স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও রিয়াল, ডলার, পাউন্ডও পাওয়া গেছে। দানবাক্সে বেশিরভাগই এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোট ছাড়া ১০০/৫০ থেকে ১০/২০ টাকারও অসংখ্য নোট পাওয়া গেছে। মাজারের ওয়াকফ স্টেট অফিসার সজল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে এতো টাকা ওঠায় শতাব্দির পর শতাব্দি মাজারে কি পরিমাণ টাকা ওঠেছে, এ নিয়ে নানা প্রশ্নে ছুঁড়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেকচি সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। সেইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনয়নের স্বার্থে পিতলের ডেকচি সিলাগালা করে নিজস্ব দানবাক্স বসায় জেলা প্রশাসন। তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ অসন্তোষের মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে অনেকে এর পেছনে জামায়াত ও কতিপয় বিএনপি নেতার ইন্দন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমে ঘোষণা দেন প্রতি মাসে অথবা ১৫ দিন পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে। যদিও সিলেট ছাড়ার আগেই সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ শুরু করেন।


