প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ‘ডিভোর্স’ হতে পারে না: এমপি সিরাজ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জিএম সিরাজ এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। জিএম সিরাজ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ আমরা যে প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর সম্পর্কের কিন্তু ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেব। সেটা হলো যে, আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্পর্কে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন। ত্রিবেদী বললেনÑ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন।’ কিন্তু আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারতবিরোধিতা বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? ভারতের পুশ-ইন প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এই এমপি বলেন, আমরা জানতে চাই যে, আজকে ‘পুশ-ইন’ ভারতের ভাষায় ‘পুশব্যাক’ হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই, আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সাথে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সাথে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কী চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে, আপনারা দয়া করে ‘পুশ-ইন’ বন্ধ করুন। পুশ-ইন বন্ধ করুন। একই সাথে পুশ-ইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদেরÑমাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবসম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণিকে নষ্ট করে ফেলছে। দুই সীমান্তে মাদকের যাতায়াত, কারখানা৷ এটা বন্ধ করতে হবে।


