জাতীয় সংবাদ

ঝিনাইদহে শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামী আবু তাহেরের মৃত্যুদন্ড

এসআই মল্লিক (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম আক্তার তোয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। একই সাথে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয় আসামীকে। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহ উজ্জামান এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে জরিমানাকৃত টাকা পরিশোধ না করা হলে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর সম্পত্তি থেকে নিয়ে তা ক্ষতিপুরণ হিসাবে নিয়ে দেওয়ারও নিদের্শ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার পর আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আবু তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকত। তার গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর। নিহত তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম পেশায় দর্জি দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের শিশু তাবাচ্ছুম খেলতে খেলতে আবু তাহেরদের পরিত্যাক্ত বাড়ির সামনে যায়। সেসময় তাহের ঘরের সামনে শিশুটিকে খেলতে দেখে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও পরে নিজের ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে। ঘটনার সময় তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন চাকুরীগত কারনে বাইরে ছিলেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। পরদিন অনেক খোজাখুজির পর পুলিশ তাবাচ্ছুমের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই তার পিতা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশি তদন্তে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু তাহেরকে সনাক্ত করে এবং ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ শিকার করে জবানবন্দি দেয়। এরপর গত ২২ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সোমবার আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা দেখি রায় হয় কিন্তু তা কার্যকর হয়না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সন্তান হত্যার রায়টি কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন কোন কন্যা শিশুকে এমন ঘটনার শিকার হতে না হয়। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং সাথে ছিলেন জেলা পিপি এসএম মশিউর রহমান। তারা বলেন, আদালত দৃষ্টান্তমুলক রায় দিয়েছে। আমরা খুশি, ভুক্তভোগী পরিবার ও এ রায়ে খুশি। এদিকে আসামী পক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োককৃত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলায় দাখিলকৃত তথ্য প্রমাণ সঠিক ছিল। সে ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়েছে। আসামী পক্ষ আপিল করতে চাইলে সে সুযোগ আছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button