নগরীতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা

# সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে #
খুলনা মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন থেকেই এই অবস্থা। সম্প্রতি এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যন্ত অটোরিকশার দাপট। এসব অটোরিকশার না আছে লাইসেন্স, না আছে চালকের দক্ষতা, না মানছে তারা আইন। এতে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য। অটোরিকশার চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। ফলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে খুলনার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হওয়া প্রয়োজন সিটি কর্পোরেশন ও কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক নগরীর প্রধান সড়কে অটোরিকশার মতো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিবেগ বেশি হলেও এগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল। তা ছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এই অটোরিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জ করার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মুদ্রার অপর পিঠটিও ভেবে দেখতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে এই অটোরিকশা বেশ সাশ্রয়ী এবং সহজপ্রাপ্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। কাজেই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। অতীতে বেশ কয়েকবার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জোনভিত্তিক চলাচল সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া, চালকের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান এবং অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা হলে চলমান সংকটের অনেকটা অবসান হবে। আমরা মনে করি, খুলনা মহানগরীর মতো জনবহুল শহরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। খুলনার সড়ক সচল ও নিরাপদ করতে হলে প্রশাসনকে কঠোর ও মানবিকÑউভয় ভূমিকাই একসঙ্গে পালন করতে হবে। অটোরিকশা রাতারাতি বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু এর দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই হবে। পাশাপাশি নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
