স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর কলেজ অধ্যক্ষ’র দূর্নীতির অভিযোগে কার্যালয়ে তালা

স্টাফ রিপোর্টার : দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজ এর অধ্যক্ষ’র অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগকৃত এ এস এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কলেজটির ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারিরা দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর লিখিত অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবনিযুক্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনির নিকট। কলেজ সুত্রে জানা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার ২২ জুন অধ্যক্ষে’র কার্যালয় তালা দিয়েছে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন (রনি )। অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কলেজ সরকারী করণের নামে কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে বিভিন্ন শিক্ষকের মাধ্যমে নয় লক্ষ্য ছাব্বিশ হাজার পাঁচশত টাকা নিয়ে আত্মসাৎ। অত্র কলেজের প্রধান হিসাব সহকারীর কাছ থেকে বিনা ভাউচারে ছয় লক্ষ টাকা গ্রহন করে আত্মসাৎ। কলেজে বিভিন্ন মামলার খরচ দেখিয়ে কলেজ ফান্ড থেকে প্রায় ছত্রিশ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ভুয়া ভাউচারে দুর্নীতি মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের এমপিও ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদকে অসহযোগিতা করা। তিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়। ইহা ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। অধ্যক্ষ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আত্মগোপন থাকায় উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালনা পরিষদের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনি অধ্যক্ষ কার্যালয় তালা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য, এ,এস,এম, আনিসুর রহমান (অধ্যক্ষ), ইনডেক্স নং-৬১৭৪৭৯, কোড নং-৭,প্রথমে সাচিবিকবিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রভাষক হিসাবে যোগদান করার সময় প্রয়োজনীয় নট্রামস সনদ না থাকা সত্ত্বেও সাচিবিকবিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এ.এস.এম. আনিসুর রহমানকে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেয়া হয়। উক্ত নিয়োগ প্রাপ্তির পর জাল সনদের ভিত্তিতে তাঁকে এম.পি.ও. ভুক্ত করা হয় এবং অদ্যাবধি উক্ত পদে চাকুরী করে তিনি অবৈধভাবে সরকারী কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, এ.এস.এম. আনিসুর রহমানের বর্ণিত বিষয়ে চাকুরীর জন্য ৬ মাস মেয়াদী সাচিবিকবিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বা বানিজ্যিক ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাঁর দুইটা প্রশিক্ষণ গ্রহণ সম্পর্কিত সার্টিফিকেটের কোনটাই নেই। অধ্যক্ষ নিয়োগের সময় এএসএম আনিসুর রহমান বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামী ছিলেন। দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সেটি আসলে পূর্ব শত্রুতা বশতঃই। ৫ আগষ্টের পর থেকে আমার পিছনে এরা উঠে পড়ে লেগেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভাপতি জয়নাল আবেদীন তিনি থেকে আমার রুমে এ্যাডভোকেট সাহেব বেআইনিভাবে তালা মেরেছিল সেটি খুলে দিয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখাকালীন অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলছিল। দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনি বলেন, এটা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এখানে কেউ ব্যবসা করতে আসে না। এখানে সেবা করতে আসবে। আমি এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার পরিবেশবান্ধব হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতি অনিয়ম ও আত্মসাৎকারীদের প্রশ্রয় দেয়া হবে না। এই কলেজে যে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করবে সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ভালো প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট করা হবে। উক্ত ঘটনার পর কলেজের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ এর একটা সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button