সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানানোয় ভারতকে কড়া জবাব চীনের
প্রবাহ রিপোর্ট : ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করেছে, ঢাকার সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ ধরনের সহযোগিতা বাইরের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত। বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। সোমবার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংলগ্ন হওয়ায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে।
গুও জিয়াকুন বলেন, “চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকা উচিত।”
তিনি তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাসাধ্য সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত চীন।
চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করতে আগ্রহী বেইজিং। বাণিজ্য, অর্থনীতি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় দেশটি।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।
তার ভাষ্য, এ বিষয়ে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চীন।
তিস্তাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ঢাকা ও বেইজিং সমঝোতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, তিস্তা পরিকল্পনা-সংক্রান্ত যেকোনো অগ্রগতি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন করে স্বাক্ষর করে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

