প্রচ- গরমে-লোডশেডিংয়ে নাকাল খুলনাবাসী

# গতকাল থেকে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি কর্তৃপক্ষের #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ প্রচ- গরমের মধ্যে টানা লোডশেডিংয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল খুলনা মহানগরীর জনজীবন। দিন-রাত ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। বিদ্যুৎহীনতায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রম, পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহেও বিঘœ সৃষ্টি হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অসহনীয় গরমে অনেকের রাতের ঘুম ব্যাহত হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তবে সোমবার (২৯ জুন) বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকো খুলনার সার্কেল বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান। তিনি জানান, বর্তমানে খুলনা অঞ্চলে কোনো লোডশেডিং নেই। রোববার জাতীয় গ্রিডে কারিগরি কাজ পরিচালনার কারণে সাময়িকভাবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিল। জাতীয় গ্রিডে কাজ শেষ হওয়ায় এখন স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রয়েছে। তিনি জানান, গত ২৮ জুন রাত ৯টায় খুলনা সার্কেলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৮৪ মেগাওয়াট। ফলে ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। একই সময়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এলাকায় মোট চাহিদা ছিল ৭৮৫ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৭০৫ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৮০ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ২৭ জুন রাত ৯টায় খুলনা সার্কেলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭৩ মেগাওয়াট। সে সময় সরবরাহ পাওয়া যায় ১৫৭ মেগাওয়াট এবং ১৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। অন্যদিকে ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় মোট চাহিদা ছিল ৭২৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৬৪৫ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৮৩ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে কারিগরি কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং খুলনা অঞ্চলে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রয়েছে।



