বাগেরহাটে সরকারি খাল না কেটে ফিরে গেলেন এমপি-ডিসি

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টায় পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খালের পাড়ের গোমতি এলাকায় অবস্থান নেন সরকারি কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা। উদ্দেশ্য ছিল দেলভাষানী খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা। খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করার আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে খাল না কাটার অনুরোধ জানান। কিছুক্ষণ পর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের কাছেও একইভাবে খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানান সেলিম কাজী। তিনি দাবি করেন, সরকারি খাল আটকে তারা ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাছ ছেড়েছেন। এখন খাল কেটে দিলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সেলিম কাজীর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত খাল কেটে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে খালটি উন্মুক্ত করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করে দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করাকে দখলকারীরা কোনো অপরাধই মনে করেন না। জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্যের সামনেও তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বিষয়টি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার কাছে ভালো লাগেনি। তিনি দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, দেলভাষানী খালে যারা বাঁধ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছিল, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা কৌশলগত কারণে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিষয়টি বিবেচনা করেছি। আগামী দুই সপ্তাহ পর খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল খনন এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে দখলদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেলভাষানী খালে এসে জানতে পেরেছি এখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যারা মাছ চাষ করছেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছেন। আমরা তাদের দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে তারা মাছ তুলে নেবেন। এরপর আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব। জনস্বার্থে পর্যায়ক্রমে জেলার সব খাল উন্মুক্ত করা হবে।



