জাতীয় সংবাদ

শহীদ পরিবারের কষ্ট আমি অনুভব করি: প্রধানমন্ত্রী

# বর্ণাঢ্য আয়োজনে জুলাই জাতীয় সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত গেল ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন ২০২৬’। জুলাই শহীদ পরিবারের বেদনা, আহত যোদ্ধাদের শারীরিক যন্ত্রণা এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ক্ষত তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের কষ্ট শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো জাতির বেদনা। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এখানে উপস্থিত অনেক মা তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। কেউ দেখেছেন কীভাবে তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, কেউ দেখেছেন কীভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেক ভাই নিজের ভাইকে হারিয়েছেন। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি আরও বলেন, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্ট আমিও অনুভব করতে পারি। শারীরিকভাবে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, যারা এখনো যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই কষ্টও আমি উপলব্ধি করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ প্রাণ দিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, আবার অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শুধু শারীরিক নয়, মানসিক নির্যাতনের ক্ষতও গভীর। এই যন্ত্রণা শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত পুরো জাতিকে বহন করতে হয়। তারেক রহমান বলেন, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। তিনি আরও বলেন, যারা অন্যায় করেছে, যারা হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। তবে আমরা চাই, বিচারের নামে যেন আরেকটি অবিচার না ঘটে। বিচার হতে হবে ন্যায়সংগত ও আইনের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের হারানো হয়েছে তারা আর কখনো ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে-এই পরিবর্তনের পেছনে শহীদদের আত্মত্যাগ রয়েছে। বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button